মঙ্গলবার, জুলাই ৫, ২০২২
20.3 C
Toronto

Latest Posts

আসুন ডলি’কে আবারো নির্বাচিত করে গৌরবের অংশীদার হই

- Advertisement -
ডলি বেগম এমপিপি

কানাডা বহুজাতি, ভাষা ও সংস্কৃতির দেশ। এর রাজনীতি ও শাসন কাঠামোতেও তার প্রভাব লক্ষনীয়। বাংলা ভাষাভাষি এখানে একটি বৃহত্তম কমিউনিটি। কিন্তু রাজনীতি ও শাসন কাঠামোয় সে অবস্থান দূর্বল। কানাডার কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী পরিষদে ৪ জন ভারতীয় বংশদ্ভুত নাগরিক এবং ১৮ জন সংসদ সদস্য আছেন। ২০২১এর তথ্য অনুযায়ী ৪টি প্রধান দল ও কানাডার কেন্দ্রীয় সরকারে দক্ষিন এশিয়ার প্রধিনিধিত্ব আছে ২৭.২ শতাংশ। সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান শূণ্য ও হতাশার।

এ তো গেল কেন্দ্রীয় সরকারের বিষয়। অন্টারিও প্রাদেশিক পরিষদে দক্ষিন এশিয়দের অবস্থান ৮.৭ শতাংশ। আসন আছে ১১টি। সেখান বাংলাদেশের আসন মাত্র ১টি, সে আমাদের ডলি বেগম। আর ওকে নিয়েই যদি শংকিত হতে হয় সেটা হবে দুঃখজনক। এ সংখ্যা অবশ্যই বাড়ানো দরকার। এবার অবশ্য বাংলাদেশি বংশদ্ভুদ আরো দু’জন প্রার্থী হয়েছেন, ইটোবিকো- লেকশোর থেকে এনডিপি’র ফারহিন আলিম এবং ওকভিল নর্থ বারলিংটন থেকে লিবারেলের কানিজ মৌলি। তাদেরকে এ নির্বাচনে জিতিয়ে আনতে পারলে এ অবস্থার কিছু পরিবর্তন হবে।

- Advertisement -

অন্টারিও প্রভিনশিয়াল নির্বাচনে প্রধানত ৪টি দল প্রতিদ্ধন্দ্বিতা করছে। এই পরিষদের সদস্য সংখ্যা ১২৪ জন। সরকার গঠন করতে প্রয়োজন ৬৪টি আসন। যে দল নূন্যতম ৬৪ আসন পাবেন তারাই সরকার গঠন করবেন। ডলি নির্বাচন করছে প্রধান বিরোধী দল এনডিপি থেকে। তার দল ক্ষমতায় গেলে অর্থ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আবাসিক খাতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটবে। তিনি অনেক কিছু করতে পারবেন। সেটা না হলে সংসদে বিরোধী দলের অবস্থানে থাকাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। যেটা তিনি এখন আছেন। শুধু আছেনই না, যথেষ্ট প্রভাব ও সুনামের সাথেই আছেন।

ডলি একটি সাধারণ নাম। চাহনি ও চলা-ফেরায়ও তার অনুরুপ। কোন ভাব-ভনিতা নেই। বাঙালি কমিউনিটির কোন ভিড়ে তাকে আলাদা করে চোখে পড়ে না। সহজেই মিশে যায়, মিলে যাবার মতই সে। অন্যদের বাদ দিয়ে চোখে না পরলেও তার বিনয়, ভদ্রতা, কর্তব্যবোধ ও নেতৃত্বগুণে সে অনন্য ও উজ্জল। সেটাই তার শক্তি ও সৌন্দর্য। সেটাই তাকে অধিক গ্রহনযোগ্যতা, জনপ্রিয়তা দিয়েছে, জনপ্রতিনিধি করেছে। আগামীতেও করবে সে বিশ্বাসে আমি দ্বিধাহীন। সে জন্যই বাঙালি কমিউনিটি ছাপিয়ে সে সবার হয়ে উঠেছে। সে হয়ে উঠেছে অন্টরিওর বহু ভাষা-সংস্কৃতি-জাতিয়তা ও বৈচিত্রতার প্রতীক এবং প্রতিনিধি। বাঙালির গর্ব ও অহঙ্কার।

ডলিই অন্টারিও প্রাদেশিক পরিষদের প্রথম বাংলাদেশি-কানাডিয়ান এমপিপি যিনি এই গৌরবের মুকুটটি অর্জন করেছেন। ওর কারণে প্রবাস প্রজন্মের তরুণরা বুকে স্বপ্ন বুনেছে, ভবিষ্যত নেতৃত্বের জন্য তৈরী হচ্ছে। ডলি সেই তরুণদের আইকন।

আগামী ২রা জুন অন্টারিও প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন। যারা কানাডা, অন্টারিওর রাজনীতির খোঁজখবর রাখেন, সংবাদ দেখেন তারা ডলি’র তৎপরতা সম্পর্কে জানেন। সংসদে নানা ইস্যুতে যুক্তি ও বুদ্ধিতে তিনি দারুণ দৃঢ়তায় কথা বলেন। অন্যরাও স্তব্ধতায় তাকে শুনছেন বিতর্ক করছেন বা সমর্থন করছেন।

এম পি পি হিসেবে ডলি শুধু তার রুটিন কাজই নয়, তার বাইরেও অনেক কিছু করেছেন। আশা করি ভবিষ্যতেও তার ধারাবাহিকতা থাকবে। সে আলাপ অনেক লম্বা তাই এখানে না করি। তবে এটুকু বলি, গত ৪ বছর সে বিরোধী দলে থেকেও সরকারি দলের ৯০ভাগ সদস্যের চেয়েও অধিক বিল পাশ করিয়েছেন। নেতা হিসেবে এটা তার বড় কৃতিত্ব, সক্ষমতা, সফলতা ও গুণাবলী। ভবিষ্যতে তাঁর-তাদের কাজের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার কয়েকটি এখানে উল্লেখ করছি।

১। বিভিন্ন দেশ থেকে অভিবাসিরা উচ্চতর শিক্ষা ও পেশাগত দক্ষতা নিয়ে কানাডায় আসেন। এখানে নতুন করে লেখাপড়া করতে ও চাকরি পেতে সমস্যা হয়। সে সমস্যা সমাধানে তিনি প্রদেশিক পরিষদে ‘আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত উচ্চতর পেশাজীবীদের জন্য ফেয়ারনেস বিল ৯৮’ উত্থাপন ও পাশ করিয়েছেন। এখন তা বাস্তবায়নের পালা। এই বিল বাস্তবায়ন হলে কানাডায় আসা কোন অভিবাসিদের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে নতুন করে ভাষাপরীক্ষা দিতে হবে না। এবং কানাডার কোন চাকরির অভিজ্ঞতা ছাড়াই আবেদন করতে পারবেন। অভিবাসিদের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয়।

২। কমিউনিটি ও অন্টারিও প্রদেশের নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের সরকারি বাসা প্রাপ্তি (এফোর্ডএবেল হাউজিং), বাসা ভাড়া নির্ধারণ ও বাড়ীর মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা ও তাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার নীতি-পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন।

৩। গাড়ির ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রে- ড্রাইভিং হিস্ট্রি না দেখে, পোস্টালকোর্ডের মাধ্যমে ইন্স্যুরেন্স নির্ধারণের একচেটিয়া কর্পোরেট বাণিজ্য বন্ধে উদ্যোগ গ্রহন করেছেন।

৪। স্বাস্থ্যখাতের পরিধি-সুবিধা (ফার্মাকেয়ার, ডেন্টালকেয়ার) ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য কাজ করছেন। আগামীতে সিনিয়র সিটিজেন, ওল্ডহোম সুবিধা ও পরিমান বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবেন।

৫। পাবলিক পরিবহনের সুবিধা-সংযোগ বাড়ানোর ও নিরাপদ সড়ক তৈরীতে সোচ্চার আছেন।

৬। অবৈধ অস্ত্র ও গান ভায়োলেন্স বন্ধ করা-নিয়ন্ত্রণের কথা বলছেন।

৭। নিরাপদ শ্রেণীকক্ষ, চাইল্ড কেয়ার সুবিধা বৃদ্ধি ও সাপোর্টারদের সুবিধা বাড়ানো তার একটি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা

৮। কমিউনিটি সবার আগে, এই বিশ্বাসে করোনাকালের মহসংকটে এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তার উদ্যেগ-প্রচেষ্টা প্রশংসিত হয়েছে।

৯। ডলি প্রতি শুক্রবার তার অফিস সর্বসাধারণের সেবায় উন্মুক্ত রেখেছেন। তার কাছে কেউ কোন সমস্যা নিয়ে গেলে তিনি তার সামর্থের সবটা দিয়ে সহযোগিতা করেন।

১০। সর্বশেষ যে বিষয়টি উল্লেখ করবো ডলি বাংলাদেশের অভিযুক্ত অর্থপাচাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রাদেশিক পরিষদে কথা বলেছেন। তার দলকে সম্পৃক্ত করেছেন। কানাডায় আত্মগোপনে থাকা বাংলাদেশের অভিযুক্ত অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনে আইন সংস্কারের কথা বলেছেন। তারমানে প্রবাসেও তিনি বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থর পক্ষে দাড়িয়েছেন। কানাডার মূলধারার একজন সম্ভবনাময় তরুণ রাজনীতিক হিসেবে বিষয়টি তারজন্য স্পর্শকাতর হলেও তিনি বাংলাদেশের স্বার্থকেই অগ্রধিকার দিয়েছেন।

সুতরাং ডলিকে আবার নির্বাচিত করতে হবে। তাকেই আবারো ভোট দিতে হবে। কেননা ডলি’র প্রথম পরিচয় সে বাংলাদেশি-কানাডিয়ান এবং বাঙালি অধ্যুষিত অঞ্চলে বাস করেন। দেশকে এবং নিজেকে গৌরাবান্বিত করতেই তাকে ভোট দেবেন। প্রশ্ন আসতে পারে, অন্য দল করলে- আঞ্চলিকতার কারণে কেন তাঁকে ভোট দেবেন? ভোট দেবেন এই কারণে যে, একজন বাংলাদেশি বংশদ্ভুদ হিসেবে সে যেভাবে দেশের স্বার্থকে বিদেশের মাটিতে তুলে ধরবে’ অন্যরা সেটা করবে না। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, কানাডার মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোও ভোট ব্যাংকের হিসেবে বিভিন্ন স্থানে এথনিসিটির ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করে থাকে। তারা জানে সে সব স্থানে অন্য অঞ্চল থেকে বা যে কাউকে নোমিনেশন দিলে ভোটের হিসেব পাল্টে যেতে পারে। তাহলে তারা যদি ভোটের অংকে এথনিসিটিকে গুরুত্ব দেয় আপনি কেন দেশ ও স্বজাতির স্বার্থে ডলি বেগমকে ভোট দেবেন না? সর্বোপরি তার আছে উপযুক্ত দক্ষতা, যোগ্যতা, তারুণ্য, কমিউনিটির প্রতি অঙ্গীকার ও অকৃত্তিম ভালবাসা।

ডলি’র নির্বাচনী এলাকা স্কারবোরো সাউথওয়েষ্ট রাইডিং। প্রবাসী বাংলাদেশী যারা এ অঞ্চলে বাস করেন- তাদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা তাকে আপনার মূল্যবান ভোট দেবেন। শুধু নিজের ভোট নয়, আপনার প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব পরিচিত-অপরিচিতদের কাছে থেকেও তার জন্য ভোট সংগ্রহ করবেন এবং তা নিশ্চিত করবেন।

ডলি জনস্বার্থে যে কাজগুলো করছে ও করবে তা সহজ নয়। পুঁজিবাদি সমাজের কর্পোরেট বৃত্ত ভেঙ্গে তা করতে যাওয়া খুব কঠিন ও বিপদজনক। কিন্তু তিনি করছেন, আশা করি বাকিটাও করবেন। সেই কঠিন কাজে সবার সমর্থন হবে- তার সাহস ও এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। জুনের সেই জয় তাকে লক্ষ্য অর্জনে দূর্নিবার করুক। আসুন ডলিকে আবারো নির্বাচিত করে আমরা গৌরবের অংশীদার হই।

ড. মঞ্জুরে খোদা (টরিক), লেখক-গবেষক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।

- Advertisement -

Latest Posts

Don't Miss

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.