
অন্টারিও ধারণার চেয়ে বড় বাজেট ঘাটতির মুখে পড়েছে। কিন্তু ডগ ফোর্ড সরকার এখনো পরবর্তী প্রাদেশিক নির্বাচনের আগে আগে বাজেটে ভারসাম্য আনার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।
‘বিল্ডিং আ বেটার অন্টারিও’ শিরোনামে ২০২৪ সালের বাজেট ২৬ মার্চ বিকালে প্রকাশ করেছে সরকার। বাজেটটি প্রণয়ন করা হয়েছে গত বছর দেওয়া প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে। এতে অবকাঠামো ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে করদাতাদের যাতে তাদের পকেটে হাত দিতে না হয় সেটাও নিশ্চিত করা হচ্ছে।
২০০ পৃষ্ঠার নথিতে সরকার বলছে, আমরা আমাদের পরিকল্পনা থেকে সরে যাইনি। অন্টারিও যে ধারাবাহিকভাবে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে সেটাও তুলে ধরা হয়েছে নথিতে।
মোট ব্যয়ের হিসাবে সরকারের বাজেট গত বছরকে ছাড়িয়ে গেছে। এতে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ২১ হাজার ৪৫০ কোটি ডলার, যা প্রদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ। এর মধ্যে কর্মসূচি বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯ হাজার ৪৫০ কোটি ডলারের কাছাকাছি।
একই সময়ে প্রদেশের গত বছরের ঘাটতি প্রাক্কলন করা হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার, যা ২০২৩ সালের পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক বেশি। তবে তৃতীয় প্রান্তিকের প্রাক্কলনের চেয়ে কম। গত বছর ঘাটতি প্রাক্কলন করা হয়েছিল ১৩০ কোটি ডলার। তৃতীয় প্রান্তিকে প্রাক্কলিথ ঘাটতি বেড়ে হয় ৪৫০ কোটি ডলার।
প্রদেশের পক্ষ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ঘাটতি আরও বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তাদের হিসাবে অর্থবছরটিতে অন্টারিওতে বাজেট ঘাটতি দাঁড়াবে ৯৮০ কোটি ডলার। তবে পরের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চেয়ে এই ঘাটতি ৪৬০ কোটি ডলার কম। আর পরবর্তী নির্বাচনের সময় অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৫ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত থাকবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।
গত বছর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, ২০২৫ সালের মধ্যে তারা বাজেটে ভারসাম্য আনবে। কিন্তু কর্মকর্তারা আর্থিক বিপর্যয়ের কথা বলেছেন, যা প্রদেশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
অর্থমন্ত্রী পিটার বেথনেলফালভি ২৬ মার্চ সাংবাদিকদের বলেন, এটা এমন এক পরিকল্পনা যা বাজারে নিশ্চয়তা দেবে এবং জনগণ আস্থা পাবে এই ভেবে যে, বৈশি^ক অর্থনীতি যে চ্যালেঞ্জের সামনেই আমাদের ফেলে দিক না কেন সরকার তা মোকাবিলার করার জন্য তৈরি।
২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে সবচেয়ে বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা খাতে। এ খাতের সরকার ৮ হাজার ৫০০ কোটি ডলার জোগান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, গত অর্থবছর যার পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ১০০ কোটি ডলার।
নতুন মিউনিসিপাল হাউজিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রোগ্রামেও প্রদেশ প্রায় ১০০ কোটি ডলার ব্যয় করবে। গত সপ্তাহে যা ঘোষণা করা হয়েছে। এই অর্থ মৌলিক অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে, যা আবাসন ও সড়ক অবকাঠামোয় ব্যয় হবে। পানি অবকাঠামো সংস্কার ও সম্প্রসারণের জন্য ৬২ কোটি ৫০ লাখ ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে এই অর্থ তার অতিরিক্ত।
নতুন করে কর কর্তনের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি বাজেটে। কেবলমাত্র গ্যাস ও জ্বালানিতে কর হার কর্তন করা ছাড়া। প্রতি লিটার গ্যাস ও জ¦ালানিতে ৫ দশমিক ৭ সেন্ট কর হার ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত রাখবে সরকার। বাজেটের তথ্য অনুযায়ী, এর ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে করদাতাদের খরচ হবে ৬২ কোটি ডলার।
এই সম্প্রসারণের আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ বাবদ করদাতাদের ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৩২ কোটি ডলার এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩২ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

