
অন্টারিওর উইন্ডসরে এক সময় বাস করা এক কানাডিয়ানের পরিবার বলেছে, দক্ষিণ লেবাননে পারিবারিক বাসভবনের বাইরে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গত সপ্তাহে নিহত হয়েছেন। মোহাম্মদ হুসেইন হায়দার বলেন, স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানের সঙ্গে মিলিত হতে তার ভাই ৩৮ বছর বয়সী হাসান হায়দার গত নভেম্বরে লেবাননে যান। পারিবারিক সম্পত্তিতে পালন করা ঘোড়াগুলোর দেখভাল করাও লেবাননে যাওয়ার একটি উদ্দেশ্য ছিল তার।
তিনি বলেন, এই অঞ্চলে ইসরায়েলি হামলার মধ্যে তার ভাই তার স্ত্রী ও লেবাননের একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন এবং তার ঘোড়াগুলো দেখভালের জন্য তার পেছনে থেকে যান। গত বৃহস্পতিবার হায়দার যখন তার স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন তখন বাইরে থেকে সাহায্য চেয়ে চিৎকার শুনতে পান। ঘোড়াগুলোর দেখাশোনা করা এক ব্যক্তি ড্রোন হামলার শিকার হন এবং হায়দার যখন তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে যান তখন তিনিও মাথায় গুলিবিদ্ধ হন এবং মারা যান।
ইরানের মদদপুষ্ট হিজবুল্লাহর সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধের মধ্যে গত সপ্তাহে লেবাননে হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা এক হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে।
হায়দারের মৃত্যুর বিষয়ে গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল দি কানাডিয়ান প্রেস।
হায়দারের বোন ফাতিমা বলেন, তার বাবা-মা ২০ বছর আগে তাকে ও তার ছয় ভাই-বোনকে নিয়ে লেবাননের কানা থেকে কানাডায় অভিবাসন করেন। সেই সময় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলা সশস্ত্র সংঘাত থেকে মুক্তি পেতে কানাডায় অভিবাসী হন তার বাবা-মা।
ফাতিমা বলেন, আমাদের ভাই হাসান এই পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান। তিনি ছিলেন খুবই মিশুক, দয়ালু ও শিক্ষিত। তিনি ছিলেন একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। আমার, হুসেইন ও হাসানের মধ্যে বয়সের তফাৎ মাত্র এক বছর করে। আমরা এক সঙ্গে বড় হয়েছি। তার ভাই ছিলেন পশুপ্রেমিক। তিনি তার ঘোড়াগুলোকে খুব ভালোবাসনেতন। হাসানকে যারা চিনতেন তারা সবাই জানে যে, ঘোড়াগুলোর প্রতি তার কতটা ভালোবাসা ছিল এবং ঘোড়াগুলোকে তিনি কতটা যতœ করতেন।

