
প্রতারিত। অমানবিক। বিধ্বস্ত। মানসিক অসুস্থতার কারণে যারা স্বেচ্ছামৃত্যু চাইছেন নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতে তারা এই শব্দগুলোই ব্যবহার করছেন। কারণ, সরকারের বিশেষ কমিটি মানসিক অসুস্থতাকে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্স ডায়িংয়ে অন্তর্ভুক্ত না করার সুপারিশ করেছে।
১৭ জুন এই সুপারিশ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো রোগীর সেরে ওঠার সম্ভাবনা আছে কিনা তা নিরূপন এবং এমএআইডি অনুরোধকে আত্মহত্যার প্রবণতা থেকে আলাদা করা যাবে কীভাবে তা নিয়ে কোনো মতৈক্যে পৌঁছানো যায়নি।
শয্যায় শুয়ে এই সিদ্ধান্ত পড়ার পর কাইলি থম্পসনকে এটা ভৌতিক মনে হয়েছে। ৫২ বছর বয়সী এই ব্যক্তি এমএআইডি আবেদনের জন্য কয়েক বছর ধরে অপেক্ষা করছিলেন। ২০২১ সালে সরকার প্রথমবারের মতো বিষয়টি নিয়ে গবেষণার জন্য একদল বিশেষজ্ঞকে আহ্বান জানানোর পর থেকেই অপেক্ষায় আছেন তিনি।
মানিসক অসুস্থতার কারণে যারা ভুগছেন তাদেরকে এমএআইডির জন্য বিবেচনা করা হবে নাকি স্থায়ীভাবে তাদেরকে এ থেকে বাদ দেওয়া হবে সে সংক্রান্ত দীর্ঘ প্রতিক্ষীত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সহায়তার লক্ষ্যে ফেডারেল সরকারের জন্য প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। বিচারমন্ত্রী শন ফ্রেজার বলেন, সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করবেন তিনি।
কমিটির সামনে যারা শুনানিতে হাজির হয়েছিলেন তাদের বেশিরভাগই এমএআইডির আওতা সম্প্রসারণের বিরোধিতা করেন। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মনোবিদ বলেন, তারা এই ভেবে উদ্বিগ্ন যে, মানসিক চিকিৎসার সুযোগ না পাওয়া কেউ কেউ এমএআইডির জন্য আবেদন করতে পারেন। এ ছাড়া কোনো ব্যক্তির মানসিক অসুস্থতা যে অনিরাময়যোগ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীরা কীভাবে তা নির্ধারণ করবেন তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।
বিরুদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি যারা প্রকাশ করেছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মনা গুপ্ত তাদের একজন। যারা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন তাদের কথা কমিটি কেন শোনেনি সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

