
গত ০৮ জুন শনিবার সন্ধ্যায় বিপুল বৌদ্ধিক ব্যঞ্জনা ছড়িয়ে অনুষ্ঠিত হলো টরন্টোর বাবা লোকনাথ আশ্রমের (বিএলএ) সাহিত্য-পত্রিকা ‘অঞ্জলি’র মোড়ক উন্মোচন পর্ব। পত্রিকার লেখক ও পাঠকদের উপস্থিতিতে টরন্টো দুর্গাবাড়িতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ‘অঞ্জলি’র মোড়ক উন্মোচন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গ্রন্থকার ড. দিলীপ চক্রবর্তী। উল্লেখ্য, ২০০৯ সাল থেকে প্রতিবছর লোকনাথ ব্রহ্মচারীর তিরোধান দিবস উপলক্ষে সাহিত্যমানের লেখায় সমৃদ্ধ হয়ে পত্রিকাটি নিয়মিত পাঠকদের ঋদ্ধ করে আসছে।
ধর্মীয় পরশ লাগিয়ে প্রকাশনাটিকে স্মরণিকা পর্যায়ে অবরুদ্ধ না করে সাহিত্য-পত্রিকার মর্যাদা দান করার জন্যে সম্পাদকীয় পর্ষদের পক্ষ থেকে সুজিত কুসুম পাল অনুষ্ঠানের শুরুতে বিএলএ’র নীতি নির্ধারকদের প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে ড. দিলীপ চক্রবর্তীর সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করে শোনান জনপ্রিয় বাচিক শিল্পী কবি শেখর-ই গোমেজ।
উন্মোচনোত্তর বক্তৃতায় ড. দিলীপ চক্রবর্তী ‘অঞ্জলি’র বোদ্ধা লেখকদের একই মঞ্চে নিয়ে আসার জন্যে বিএলএ’র প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, সাহিত্যমান ও বৈচিত্র্যপূর্ণ লেখায় সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে শুরুর সংখ্যা থেকেই ‘অঞ্জলি’ পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ইয়েটস গবেষক সুজিত কুসুম পালের প্রতিটি সম্পাদকীয় কলাম পত্রিকাটিকে দিয়েছে এক্সট্রা লিটার্যারি স্ট্যাটাস।
হাস্যরসপ্রিয় ড. চক্রবর্তী এক পর্যায়ে ‘উপস্থিত লেখক, পাঠক ও দর্শকবৃন্দকে আমি আজকে ‘পিএইচডি’ ডিগ্রি প্রদান করলাম’ বলে উঠলে উপস্থিত সবাই একটু সময়ের জন্যে ‘বুদ্ধিভ্রষ্ট’ হয়ে পড়েন। পরে তিনি বললেন, ‘পিএইচডি’ মানে ‘পিওর হার্টেড ডিভোটি’ – শুনেই হলভর্তি দর্শক মোড়ক উন্মোচনকারীর হাস্যরস উন্মোচন করতে পেরে উচ্চস্বরে হাসি ও করতালি দিয়ে তাঁকে প্রাণভরে অভিবাদন জানান।
এই অনুষ্ঠানে দুই প্রজন্মের লেখক-জুটি’র স্বীকৃতি প্রদান ছিলো একটি ব্যতিক্রমী সংযোজন। ড. সুশীতল সিংহ চৌধুরী ও তাঁর মেয়ে সুচন্দ্রিমা চৌধুরী এবং কবি ঋতুশ্রী ঘোষ ও তাঁর ছেলে সপ্তর্ষি রায় মজুমদারকে যথাক্রমে বাপ-বেটি ও মা-বেটা লেখক-জুটি হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। টানা এগারো বছর ধরে ‘অঞ্জলি’তে লেখার জন্যে এই প্রজন্মের সুলগ্না সাহাকে বিশেষভাবে প্রশংসিত করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বাচিক শিল্পী কবি চয়ন দাস ‘অঞ্জলি’কে সমৃদ্ধ করার জন্যে লেখকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাঝখানে লেখকদেরকে কথা বলার সুযোগ দেয়ার জন্যে বিএলএ’র কালচারাল কমিটিকে এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাঝখানে লেখকদের কথাবার্তায় মনোযোগ দেয়ার জন্যে দর্শকদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। সমৃদ্ধ সাহিত্য-পত্রিকা ‘অঞ্জলি’র কপি সংগ্রহে রাখার জন্যে তিনি দর্শকশ্রোতাদের আহবান জানান। সম্পাদকীয় পর্ষদের পক্ষে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুজিত কুসুম পাল।
লোকনাথ ব্রহ্মচারীর তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মূল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে অংশগ্রহণ করেন সোমা চৌধুরী, অদৃ ভট্টাচার্য, প্রিয়াঞ্জনা রায় চৌধুরী, শুভাশিস রায়, শ্রীবাস দে, অনন্ত নির্ঝর বড়ুয়া, অর্ক ভট্টাচার্য, অপূর্ব রায়, অনির্বাণ ব্যানার্জি, মাধুরী, মৌমিতা, বৃষ্টি এবং বিপ্লব করের নৃত্যকলা কেন্দ্র। স্বাগত বক্তব্য প্রদান ও ধন্যবাদ জ্ঞাপনে ছিলেন যথাক্রমে বিএলএ’র সাধারণ সম্পাদক অনুপ বিশ্বাস ও সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সঞ্জিত দাস। সমগ্র অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন জ্যোতি দত্ত পুরকায়স্থ।

