
বাংলা একাডেমি ও একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রিয় টিভি ব্যক্তিত্ব আসাদ চৌধুরী আর নেই। গত ৫ অক্টোবর কানাডার অশোয়া শহরের লে’ক রিজ হাসপাতালে ভোর ৩.০৩ মিনিটে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। কবির নামাজে জানাজা পরেরদিন শুক্রবার বাদ জুম্মা টরন্টোর মার্খাম-শেপার্ডের নাগেট মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিপুল সংখ্যক ভক্ত, স্বজন ও টরন্টোর বিশিষ্টজনের উপস্থিতিতে কানাডাস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. খলিলুর রহমান কবির কফিন বাংলাদেশের পতাকায় আচ্ছাদিত করেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে কবির পরিবারের সদস্যদের হাতে রাষ্ট্রীয় মানপত্র তুলে দেন এবং সমবেদনা জানান।
পুস্পস্তবক অর্পন করে কবির প্রতি সম্মান জানানো হয়। হাইকমিশনার ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় কবি আসাদ চৌধুরী হাইকমশিন র্কতৃক আয়োজিত জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন। এছাড়া, কবি ও তার পরিবারের সাথে পারিবারিক র্পযায়ে আমার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। বাংলা ভাষা, সাহত্যি ও সংস্কৃতির প্রসারে হাইকমশিনরে বিভিন্ন উদ্যোগে আমি কবির পরার্মশ গ্রহণ করেছি। দেশে ও বিদেশে তিনি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য কাজ করেছেন। প্রবাসে, উত্তর আমেরিকায় বাংলা সাহিত্যের অগ্রযাত্রা এবং এখানকার সাহিত্যানুরাগীদের বাংলা ভাষা ও কৃষ্টিতে আকৃষ্ট করতে তাঁর অবদান অসীম ও অনস্বীকার্য। তাঁর মৃত্যুতে শুধু বাংলাদেশেই নয়, কানাডাসহ সারা পৃথিবীর বাংলাভাষী প্রবাসীদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কবি আসাদ চৌধুুরী আর শারীরিকভাবে আমাদের মধ্যে উপস্থিত থাকবেন না। কিন্তু তাঁর রচিত সাহিত্য সম্ভার আমাদের মাঝে রয়ে গেছে। অনাগত দিনে বাংলা সাহিত্যের পাঠক নিবিড় ভালবাসায় কবির সৃষ্ট পদ্য ও গদ্য পাঠ করবেন। কবি বেঁচে থাকবেন তাঁর সৃষ্টি কর্মে।’
এসময় টরন্টোর কনসাল জেনারেল অব বাংলাদেশ লতিফুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন। তারপর পিকারিংয়ের ডাফিন মেডোজ সিমেট্রিতে কবিকে সমাহিত করা হয়। এই মৃত্যুতে টরন্টোতে শোকের ছায়া নেমে আসে।
সাপ্তাহিক বাংলামেইল ও এনআরবি টিভি পরিবার শোকাহত। আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।

