
রিমোট ওয়ার্ক কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে নমনীয়তার সুযোগ করে দিয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন পরিবেশের মধ্যে কাজ করারও সুযোগ মিলছে। তবে কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে এটি। নতুন এক গবেষণায় এমনটাই উঠে এসেছে।
ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট টেকনোলজি কোম্পানি সেরিডানের সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৭৪ শতাংশ বলেছেন, ভার্চুয়ালি কাজের সুযোগ কাজ থেকে তাদের অবকাশ যাপনকে সহজ করে দিয়েছে। যদিও সমস্যা হচ্ছে, দূর থেকে কাজ করার অর্থ হচ্ছে কর্মীরা কোথায় যাচ্ছেন সেদিকে আরও বেশি নজর রাখা।
দ্য হ্যারিস পোলের অনলাইন সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের প্রায় অর্ধেক বা ৪৭ শতাংশ অবকাশকালে তারা পুরোপুরি কাজ থেকে দূরে থাকতে পারছেন। তবে মার্কিন কর্মীদের মধ্যে এ হার কিছুটা কম। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪১ শতাংশ মার্কিন কর্মী ছুটির দিনে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। কানাডারও অর্ধেক কর্মী অবকাশকালে পুরোপুরি কাজ থেকে দূরে থাকতে সমস্যার মুখে পড়েন। একই সমস্যায় পড়তে হয় যুক্তরাজ্যের ৫১ শতাংশ কর্মীকে।
কানাডার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের নেতারা বলছেন, অবকাশে যাওয়া ভালো কাজ এবং জরুরি প্রয়োজন পড়লে ব্যবস্থাপকরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। এতে কর্মীদের সাড়া দেওয়া বাধ্যতামূলক।
তবে অবকাশের ক্ষেত্রে আরেক জটিলতা তৈরি করছে সামর্থ্যরে বিষয়টি। সমীক্ষা অনুযায়ী, এই গ্রীষ্মে যারা অবকাশে যেতে চান বা অবকাশের পরিকল্পনা করেছেন তাদের ৭০ শতাংশ এর খরচ বহন করা কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন। ৩৪ শতাংশের মতে, মূল্যস্ফীতির কারণে ভ্রমণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। ৩২ শতাংশ বলেছেন, চাকরি ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার মতো অবস্থা তাদের নেই। ১৭ শতাংশের মতে, তাদের চাকরিতে এতোটাই ব্যস্ত থাকতে হয় যে, ছুটি নেওয়ার সময় নেই। আর ১৫ শতাংশের মতে, অবকাশে গেলে তাদের কাজ চালিয়ে নেওয়ার মতো কেউ নেই।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমীক্ষা থেকে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, ভার্চুয়াল কাজ লোকজনকে বাইরে সময় কাটানোর সুযোগ দিয়েছে। তবে কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে যাওয়ার জন্য এটা যথেষ্ট নয়। কাক ও ব্যক্তিজীবনের মধ্যে ভারসাম্যের জন্য অবকাশ নীতি আধুনিকায়ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের ওপর ৬ থেকে ৮ মে সমীক্ষাটি চালানো হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অংশ নেন ১ হাজার ৩৩৯ জন, যুক্তরাজ্য থেকে ৬৫৮ জন এবং কানাডা থেকে ৬২৩ জন।

