
দ্রুত ছড়িয়ে দাবানলের কারণে উত্তরপশ্চিম অন্টারিওর হাজার হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা ৬০টির বেশি আগুন শক্তিশালী বাতাসের কারণে আরও ছড়িয়ে পড়ার হুমকিতে থাকায় আরও বহু মানুষকে সরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
দাবানলের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কমিউনিটিগুলোর অন্যতম কলিন্স ফার্স্ট নেশন, যা সামায়গুসিসাগাগুন নামেও পরিচিত। এখানকার চিফ বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছেন যে, পুরো কমিউনিটি ধ্বংস হয়ে গেছে।
স্থানীয় বসিন্দা র্যামোন ক্যার্টিজ বলেন, আগুনের শিখাগুলো নাচছিল এবং এটা ছিল ভয়ের। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে তাকে টিনের বোটে করে আগুন থেকে দূরে সরে যেতে দেখা যায়।
ক্যার্টিজ বলেন, আগুন যে কলিন্সকে পুড়িয়ে দিতে পারে সেটা সে বিশ^াস করতে পারেনি। লোকজনকে ফেলে রেখে যাওয়া দেখাটা খুবই ভয়ের ছিল।
কমিউনিটি প্রথমে মনে করেছিল আগুন তাদের এখানে আসবে না। এরপর শক্তিশালী বাতাস আগুনের গতিমুখ তাদের দিকে করে দেয় এবং প্রস্তুতি নেওয়ার মতো কোনো সময় তারা পায়নি। সড়কপথে কমিউনিটিটির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ সুবিধা নেই। এ কারণে লোকজন যা কিছু পেরেছেন নৌকায় বোঝাই করে লেক পাড়ি দেন। প্রত্যেকে বের হতে পেরেছে কিনা তা নিশ্চিত হতে কমিউনিটি সদস্যরা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেন।
ক্যার্টিজ বলেন, অনেক বেশি যাত্রী পরিবহন করা অন্যান্য নৌকা যেগুলো ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতে ছিল সেগুলোকে সাহায্য করে সে।
চিফ হেলেন পাভোলা বলেন, কয়েক মিনিটের মধ্যেই তারা সবাই মারা যেতে পারত। যখন এই দাবানলের সূত্রপাত হয় তখন চিফ অ্যাসেম্বলি অব ফার্স্ট নেশন্সের (এএফএন) বার্ষিক সাধারণ সভায় যোগ দিতে অটোয়াতে অবস্থান করছিলেন।
চিফ বলেন, তিনি কমিউনিটি সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তার ফোন সেবা বিচ্ছিন্ন ছিল। শেষ পর্যন্ত পাভোলা তার সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন এবং ঘরবাড়ি ছেড়ে যাওয়া মানুষদের সাহায্য করতে বলেন তাদেরকে।
হেলাল চৌধুরী : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

