
বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আগত হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী আধ্যাত্মিক মিলনমেলা “জালসা সালানা কানাডা ২০২৫” সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ১৩ জুলাই টরন্টোর The International Centre-এ মহিমান্বিত পরিবেশে এই অনন্য আয়োজনের পরিসমাপ্তি ঘটে।
এই বৃহৎ মুসলিম সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন ২৩,০০০-এরও বেশি মানুষ, যারা এসেছেন বিশ্বের ৪৭টি দেশ থেকে। অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বহু অমুসলিম ব্যক্তিও, যারা সম্প্রীতির এই আয়োজনকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করে মুসলিম টেলিভিশন আহমদীয়া (MTA), এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এর কার্যক্রম—যা উপভোগ করেন শত সহস্র দর্শক।
সমগ্র আয়োজনের পেছনে কাজ করেছেন ৬,০০০-এরও বেশি নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবক, যারা নিঃস্বার্থ শ্রমে গড়ে তোলেন এক বিশ্বমানের প্ল্যাটফর্ম। তিন দিনে পরিবেশিত হয় এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজারের বেশি তাজা, সুস্বাদু খাবার—যার প্রতিটি ডিশে ছিল আন্তরিকতা ও ভালোবাসা।
জালসা সালানায় স্থান পায় ধর্মীয় বক্তৃতা, কবিতা পাঠ, চিত্রপ্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও ঐতিহ্যবাহী স্টল—যা তুলে ধরে বিশ্বের নানা ভাষা ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য।
এক বিশেষ প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন কানাডার ইসলামোফোবিয়া বিরোধী প্রতিনিধি আমিরা এলঘাওয়াবি, যাঁর সঙ্গে ছিলেন আরও অনেক বিশিষ্ট আলোচক। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অন্টারিও প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড, টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাও এবং অন্যান্য রাজনীতিবিদ।
ব্র্যাম্পটনের মেয়র প্যাট্রিক ব্রাউন ঘোষণা দেন যে, শহরের একটি প্রধান প্রবেশদ্বারকে নামকরণ করা হয়েছে “আহমদীয়া গেইট” হিসেবে—আহমদীয়া মুসলিম জামাতের অবদানকে সম্মান জানিয়ে।
জামাতের জাতীয় সভাপতি লাল খান মালিক বলেন: “যখন বিভাজনের ধারা সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে, তখন জালসা সালানা তা প্রতিহত করে তৈরি করে সংযোগের সেতু। আমরা এখানে শান্তি, ঐক্য ও ভালোবাসার বার্তা পৌঁছে দিই। বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষ এখানে একত্রিত হয়ে গড়ে তোলেন এক অনন্য মানবিক পরিবেশ।”
এই মহাসম্মেলন এক নজিরবিহীন উদ্যোগ হয়ে রইল—যা বিশ্বব্যাপী শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে সগর্বে উচ্চারিত হলো কানাডার মাটিতে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

