
বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী ও সঙ্গীত শিক্ষক অরুণাভ ভট্টাচার্য পরিচালিত সুরবিতান সঙ্গীত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতি বছরের মতো এবারও গত ৫ জুলাই আয়োজন করেছিল তাদের বাৎসরিক পরিবেশনা। বিপুল সংখ্যক অভিভাবকের উপস্থিতিতে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সুব্রত কুমার দাস।
সুরবিতানের পথচলার নেপথ্যে রয়েছেন অরুণাভ ভট্টাচার্য। পেশায় ডাক্তার হলেও মনে প্রাণে সংগীতপ্রেমী এই মানুষটি ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন এই সঙ্গীত বিদ্যালয়। ছোট ছোট শিশুদের হাতে সঙ্গীতের পাঠ তুলে দেওয়ার কঠিন কাজটি পরম ধৈর্য আর স্নেহ দিয়ে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন আঠারো বছর ধরে। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, তিনি ধৈবত নামের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনেরও অগ্রণী ব্যক্তিত্ব।
সুব্রত কুমার দাস তাঁর বক্তব্যে অরুণাভ ভট্টাচার্যের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সংযোগের ইতিহাস তুলে ধরেন। সঙ্গীত শিক্ষক হিসেবে, সংগঠক হিসেবে এবং রবীন্দ্রনাথের গানের শিল্পী হিসেবে অরুণাভ ভট্টাচার্যের পরিচয় তুলে ধরেন সুব্রত। এনআরবি টেলিভিশন এবং সাংস্কৃতিক বিভিন্ন আয়োজনে অরুণাভ ভট্টাচার্যের উজ্জ্বল উপস্থিতির উল্লেখ করেন তিনি। সুব্রত বলেন, বিদেশের মাটিতে ছোটদের মধ্যে বাংলার সুর ও সংস্কৃতির টান বাঁচিয়ে রাখতে অরুণাভ ভট্টাচার্যের ভালোবাসা আর নিষ্ঠা সত্যিই অনন্য। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে কয়েক শত শিক্ষার্থীর মনে বাংলা সঙ্গীতের যে বীজ অরুণাভ প্রোথিত করেছেন, প্রবাসে নিজেদের সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে সেই উদ্যোগের ভূমিকা অনন্য।
উদ্বোধনী পর্যায়ে দুটি সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করে শিক্ষার্থীরা। পরে একক ও দ্বৈত সঙ্গীত পরিবেশন করে তাঁরা। অংশ নেয় আদ্রিয়া দাস, টিয়ারা সেন, সান্বী দাস, সোহম মান্না, সাহিদ নাবিল তাহসিন, অবতার সেন, অনুরূপা শৈলী রায় সোনম, পরমজ্যোতি ভট্টাচার্য, সুধৃতা দে রাশি, নক্ষত্র শ্রেষ্ঠ বড়ুয়া, পৃ্থ্বীরাজ দাস, দেবাঙ্গি চৌধুরী, ইন্দ্রাক্ষী দাস বর্ণিকা, নিবেদিতা রায়, মানসী রায়, চারুশ্রী সেন, অঙ্কুর ভৌমিক, অপরাজিতা বড়ুয়া, সুরজ মান্না ও জয়িতা চৌধুরী অথয়ী।
অনুষ্ঠান শেষে সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন নন্দিত এই সঙ্গীত শিক্ষক। অনুষ্ঠানে তবলায় সঙ্গত করেন তরুণ শিল্পী অদ্রী ভট্টাচার্য। পুরো আয়োজনটির পরিচালনায় ছিলেন জনপ্রিয় উপস্থাপক জ্যোতি দত্ত পুরকায়স্থ।

