
অন্টারিওর ছোট্ট কমিউনিটি ওয়াকারটনের হাসপাতালে সাধারণত খুব একটা ব্যস্ততা থাকে না
২৫ বছর আগে ই.কোলির প্রাদুর্ভাবে তারনিজ শহরের সবকিছু ওলটপালট হয়ে যাওয়ার কথা এখনো স্মরণে আছে ব্রুস ডেভিডসনের। দুঃস্বপ্ন হয়ে এসেছিল এই সংক্রমণ।
অন্টারিওর ছোট্ট কমিউনিটি ওয়াকারটনের হাসপাতালে সাধারণত খুব একটা ব্যস্ততা থাকে না। কিন্তু অকস্মাৎ ডায়রিয়া, বমি এবং পেটের পীড়া দেখা দেওয়ায় হাসপাতালে রোগীর বন্যা বয়ে যায়। প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ২০০০ সালের ১৭ মে। অন্টারিওর ১৪০ কিলোমিটার উত্তরের এই শহরটিতে ডায়রিয়ার ওষুধে টান পড়ে। জরুরি বিভাগে রোগীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায় এবং গুরুতর অসুস্থ্য লোকদের অন্যান্য হাসপাতালে সরিয়ে নিতে এয়ারঅ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়।
এটাই কানাডার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ই.কোলি ও১৫৭ এর সংক্রমণ, যার উৎস দূষত পানি পান। এই সংক্রমণে শেষ পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু হয় এবং ২ হাজার ৩০০ এর মতো মানুষ অসুস্থ্য হয়।
ডেভিডসন বলেন, এটা একটা দৈব স্বপ্ন। আপনি ঠিকই আছেন কিন্তু কোনো কিছুই আর আগের মতো নেই। তার নিজের পরিবার অসুস্থ্যতার কবলে পড়ে এবং করুণ এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় পরবর্তীতে তিনি সিটিজেনস’ অ্যাডভোকেসি গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন।
সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, স্কুল ও রেস্তোরাঁগুলো বন্ধ হয়ে যায় এবং রাস্তাগুলোতে শিশুরা সাধারণত খেলা করলেও ওই সময় তা ভূতের নগরীতে রূপ নেয়। প্রথমেই আমরা সবাই অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু আস্তে আস্তে তা ক্ষোভে রূপ নিতে থাকে।
বিশ্বের দরিদ্র অঞ্চলগুলোতে পানিবাহিত রোগের ব্যাপারে তিনি শুনেছেন। কিন্তু কানাডায় এ ধরনের অভিজ্ঞতা হবে তিনি কল্পনাও করেননি। ডেভিডসন বলেন, নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য দেশের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, অর্থ ও অবকাঠামো রয়েছে। তারপরও খাবার পানির সঙ্গে মানুষকে হত্যা করছি।
স্বাস্থ্য সমস্যাটি তৈরি হয়েছিল মনুষ্য অবহেলা, সম্পদের অপ্রতুলতা এবং প্রাকৃতিক কারণে, যা দেশব্যাপী ক্ষোভের জন্ম দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অন্টারিও জাস্টিস ডেনিস ও’কনারের নেতৃত্বে গণতদন্ত শুরু হয়, যা প্রায় দুই বছর স্থায়ী হয়েছিল।
২০০০ সালের ৮ থেকে ১২ মে ভারী বর্ষায় পাশর্^বর্তী খামারের গবাদিপশুর মলমূত্র ধুয়ে কূপে চলে যায়। সেখান থেকেই মারাত্মক বিপজ্জনক ই.কোলি মিউনিসিপাল পানি ব্যবস্থায় পথ করে নেয়। ব্যবস্থাটি দেখভালের দায়িত্বে থাকা দুই ভাই স্ট্যান ও ফ্রাঙ্ক কোয়েবল এ ঘটনার দায় স্বীকার করেন।

