
কানাডার বাংলাদেশি কমিউনিটির সর্ববৃহৎ ইনডোর ইভেন্ট বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল । বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল মানেই চমক। বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল মানেই তারকা মেলা। বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল মানেই উপচেপড়া দর্শক এবং টিকিট সোল্ডআউট। টানা সাতবারের অভাবনীয় সাফল্যের পর আগামী ১৭ মে শনিবার কানাডার বাণিজ্যিক নগরী টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হবে ৮ম বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল। ভেন্যু হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে ১৯০ রেলসাইড রোডের অত্যাধুনিক ‘টরন্টো প্যাভিলিয়ন’।
৮ম বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালের এবারের আয়োজনে থাকছে বরাবরের মতো তারকামেলা। এবারের আয়োজনে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের নাম ঘোষনা শুরু হয়েছে সবেমাত্র। এবারের আয়োজনে থাকছেন বাংলা নাট্যজগতের মহাতারকা, আকাশচুম্বি জনপ্রিয় মোশাররফ করিম। তাকে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্যে কোনো বিশেষনের প্রয়োজন হয় না।
৮ম বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালের পক্ষে সাপ্তাহিক বাংলামেইল সম্পাদক ও এনআরবি টিভির সিইও শহিদুল ইসলাম মিন্টু বললেন, ‘বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালের মঞ্চে এবার থাকবেন সবার প্রিয় মোশাররফ করিম। বাকী তারকাদের নাম ঘোষণা করা হবে খুব শীগ্রই। স্টল ও স্পন্সরের জন্যে যোগাযোগ : 416-262-9642, 647-923-8233, 647-933-6763 ইমেইল : [email protected]
উল্লেখ্য, মোশাররফ করিম বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রতিভাবান অভিনেতা। তিনি ১৯৭১ সালের ২২ আগস্ট বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার পিঙ্গলাকাঠী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি অভিনয়ের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। স্কুল ও কলেজ জীবন থেকেই তিনি নাট্যচর্চা শুরু করেন। তার প্রাথমিক শিক্ষাজীবন বরিশালেই কাটে। পরে তিনি ঢাকায় আসেন এবং নাট্যকেন্দ্র নামক একটি থিয়েটার গ্রুপে যোগ দেন, যেখানে তিনি অভিনয়ের মূল শিক্ষা লাভ করেন।
মোশাররফ করিমের অভিনয়জীবন শুরু হয় মঞ্চ নাটকের মাধ্যমে। দীর্ঘদিন মঞ্চে কাজ করার পর তিনি ছোটপর্দায় অভিনয় শুরু করেন। তার প্রথম টেলিভিশন নাটক ‘অতিথি’, যা ১৯৯৯ সালে প্রচারিত হয়। তবে তার অভিনয় ক্যারিয়ারের বড়ো মোড় আসে ২০০৪ সালে, যখন তিনি ‘ক্যারাম’ টেলিফিল্মে অভিনয় করেন। এরপর তিনি একের পর এক হিট নাটকে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
মোশাররফ করিমের অভিনীত জনপ্রিয় নাটক ও টেলিফিল্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ‘ক্যারাম’ (২০০৪), ‘৪২০’ (২০০৭), ‘ভবের হাট’ (২০০৭-২০০৯), ‘হাউজফুল’ (২০১০), ‘সিকান্দার বক্স’ সিরিজ (২০১২-২০১৪), ‘অর্ধাঙ্গিনী’, ‘জার্সি নাম্বার ১০’ ‘চাঁদের নিজস্ব কোন আলো নেই’, ‘রঙের মানুষ’, ‘ভালোবাসার চোরাবালি’, ‘সিকান্দার বক্স এখন দেশে’ (২০১৩), ‘সিকান্দার বক্স এখন নিজ গ্রামে’ (২০১৫)। তার অনবদ্য অভিনয় দক্ষতা এবং সংলাপ বলার অভিনব ভঙ্গি দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান তৈরি করে।
টেলিভিশনে সাফল্যের পর মোশাররফ করিম চলচ্চিত্রেও অভিনয় শুরু করেন। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হলো: ‘জয়যাত্রা’ (২০০৪), ‘দারুচিনি দ্বীপ’ (২০০৭), ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’ (২০০৯), ‘টেলিভিশন’ (২০১৩) ‘জালালের গল্প’ (২০১৫), ‘অজ্ঞাতনামা’ (২০১৬), ‘কমলা রকেট’ (২০১৮), ‘হালদা’ (২০১৭), ‘পাপ-পুণ্য’ (২০২২) । এই চলচ্চিত্রগুলোর মাধ্যমে তিনি শুধু বাংলাদেশ নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও প্রশংসিত হন।
মোশাররফ করিম তার অভিনয় জীবনে বহু পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। তার কিছু উল্লেখযোগ্য পুরস্কার হলো: মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার (বহুবার),
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কার, টেনাশিনাস পুরস্কার, বাংলাদেশ কালচারাল রিপোর্টার্স অ্যাওয়ার্ড। তিনি একাধিকবার সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন এবং তার অভিনীত চরিত্রগুলো দর্শকদের হৃদয়ে অমর হয়ে আছে।
মোশাররফ করিম ২০০৪ সালে অভিনেত্রী রোবেনা রেজা জুঁই-কে বিয়ে করেন। এই দম্পতির একমাত্র সন্তান রোবেন রায়ান করিম। তাদের দাম্পত্য জীবন সুখী এবং তারা দুজনেই অভিনয় পেশায় নিয়োজিত।
মোশাররফ করিমের বিশেষত্ব হলো তিনি যে কোনো চরিত্রে নিজেকে অনায়াসে মানিয়ে নিতে পারেন। তার সংলাপ বলার ধরন অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্ত এবং প্রাণবন্ত। হাস্যরসাত্মক চরিত্র থেকে শুরু করে সিরিয়াস চরিত্র – সব ক্ষেত্রেই তিনি দক্ষ। তিনি সমসাময়িক সমাজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নাটক করতে ভালোবাসেন। বাংলাদেশি নাট্যজগতে তিনি অন্যতম সেরা অভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
মোশাররফ করিম বাংলাদেশি নাটক ও চলচ্চিত্র জগতে এক অমূল্য সম্পদ। তার অসাধারণ অভিনয়শৈলী ও সংলাপ বলার ভিন্নধর্মী স্টাইল তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। তিনি আজও সমান জনপ্রিয় এবং তার অভিনীত নতুন নাটক ও চলচ্চিত্র মুক্তির অপেক্ষায় দর্শকরা সবসময় আগ্রহী থাকেন।

