Latest Posts

বিয়ার বিক্রি অনেক স্টোরকে টিকিয়ে রেখেছে অন্টারিওতে

- Advertisement -
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রদেশ সরকারের নতুন নীতি অনুসারে বিয়ার, ওয়াইন ও ‘রেডি-টু-ড্রিংক’ পানীয় বিক্রির অনুমতি পাওয়ার পর অনেক দোকান নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে

অন্টারিওর ছোট কর্ণার স্টোরগুলো একসময় বন্ধের পথে ছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রদেশ সরকারের নতুন নীতি অনুসারে বিয়ার, ওয়াইন ও ‘রেডি-টু-ড্রিংক’ পানীয় বিক্রির অনুমতি পাওয়ার পর অনেক দোকান নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

অন্টারিও কনভিনিয়েন্স স্টোর অ্যাসোসিয়েশনের (ওসিএসএ) চেয়ারম্যান টেরি ইয়ালডো বাংলামেইলকে বলেন, “নতুন এই অনুমতি অনেক দোকানের জীবনরেখা হয়ে উঠেছে। যেসব দোকান টিকে থাকার লড়াই করছিল, তারা এখন নতুন ক্রেতা পাচ্ছে, বিক্রি বাড়ছে, আর ব্যবসায় প্রাণ ফিরে এসেছে।”

- Advertisement -

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর থেকে প্রদেশের লাইসেন্সপ্রাপ্ত কনভিনিয়েন্স স্টোরগুলো বিয়ার, ওয়াইন এবং ‘রেডি-টু-ড্রিংক’ পানীয় বিক্রি করতে পারছে। এটি অন্টারিও প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড সরকারের অ্যালকোহল বাজার উন্মুক্তকরণের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। পূর্বে শুধুমাত্র লিকার কন্ট্রোল বোর্ড অব অন্টারিও (LCBO) থেকে এসব পণ্য কেনা যেত, এখন সেই সীমাবদ্ধতা শিথিল হয়েছে।

অ্যালকোহল অ্যান্ড গেমিং কমিশন অব অন্টারিও (AGCO) জানিয়েছে, ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ৪,৭৯২টি দোকানকে অ্যালকোহল বিক্রির লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। প্রদেশজুড়ে প্রতিদিন নতুন স্টোর এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। এর ফলে শুধু খুচরা বিক্রেতারাই নয়, পুরো সরবরাহ চেইনেও নতুন কর্মসংস্থান এবং ব্যবসার গতি এসেছে।

টেরি ইয়ালডো আরও বলেন, “অবশ্যই চ্যালেঞ্জ আছে, বিশেষ করে সরবরাহ ব্যবস্থায়। কিছু জনপ্রিয় ব্র্যান্ড যেমন ‘রেডি-টু-ড্রিংক’ পণ্যের ঘাটতি দেখা গেছে। তবে LCBO এবং পরিবেশকরা মজুদ বাড়াতে কাজ করছে, পরিস্থিতি দ্রুতই স্বাভাবিক হবে।”

ড্যানফোর্থ, টরন্টো এলাকার এক দোকান মালিক টমি হুডাক বাংলামেইলকে বলেন, “গ্রাহকরা বিশেষ করে ‘হোয়াইট ক্ল’ এবং ‘টুইস্টেড টি’-এর মতো ব্র্যান্ডের জন্য আসছেন। তবে সরবরাহ সীমিত হওয়ায় কখনো কখনো পুরো স্টক ফুরিয়ে যায়। পুনরায় পণ্য মজুদ করতে কিছুটা সময় লাগে, এতে বিক্রির সুযোগ হারানো হচ্ছে।”

ওসিএসএ জানিয়েছে, নতুন নীতির কারণে বিক্রি বাড়ার পাশাপাশি দোকানগুলোতে মানুষের আসা-যাওয়াও বেড়েছে। অনেক দোকান এখন পানীয়ের পাশাপাশি স্থানীয় পণ্য, স্ন্যাকস ও দৈনন্দিন জিনিসপত্র বিক্রি করে বাড়তি আয় করছে। এতে ছোট ব্যবসাগুলো টিকে থাকার নতুন পথ খুঁজে পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ প্রাদেশিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আগে ক্রেতারা নির্দিষ্ট স্টোর বা বড় সুপারমার্কেটে যেতে বাধ্য ছিলেন, এখন তারা পাড়ার দোকানেই প্রয়োজনীয় পানীয় কিনতে পারছেন। এতে খরচ কমছে, সময় বাঁচছে এবং স্থানীয় ব্যবসার সঙ্গে মানুষের সম্পর্কও দৃঢ় হচ্ছে।

প্রিমিয়ার ফোর্ডের সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী বছর আরও বেশি স্টোরে এই সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধীরে ধীরে প্রদেশের প্রায় ৯,০০০টি দোকানে বিয়ার ও ওয়াইন বিক্রি চালু করা হবে।

টেরি ইয়ালডো বলেন, “এটা কেবল ব্যবসার উন্নয়ন নয় এটা ছোট ব্যবসা মালিকদের জন্য বেঁচে থাকার লড়াই। অনেক দোকান মালিকই আগের দুই বছরে বিক্রির ঘাটতির কারণে দোকান বন্ধের মুখে পড়েছিলেন। কিন্তু এখন তারা আবার আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন।”

সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রদেশজুড়ে প্রায় ১৫,০০০ কনভিনিয়েন্স স্টোর রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক তৃতীয়াংশ দোকান গত পাঁচ বছরে লোকসানের কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। নতুন এই নীতিই তাদের পুনর্জীবন দিয়েছে।

বাংলামেইলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অন্টারিওর স্থানীয় অর্থনীতিতে এই পদক্ষেপ শুধু ব্যবসায় নয়, বরং সামাজিক পর্যায়েও প্রভাব ফেলছে। ছোট ব্যবসা টিকলে স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়বে, এবং তা দীর্ঘমেয়াদে প্রদেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

- Advertisement -

Latest Posts

Don't Miss

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.