
দীর্ঘদিনের টরন্টো কমিউনিটি লিডার, তরুণদের গুরু এবং অস্ত্র সহিংসতা বন্ধের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর লুইস মার্চ মারা গেছেন। ২০ জুলাই ৬৮ বছর বয়সে তার স্কারবোরোর বাড়িতে মারা যান তিনি। তার জন্ম ১৯৫৫ সালের ১ আগস্ট। ২০১৩ সালে জিরো গান ভায়োলেন্স মুভমেন্ট (জেডজিভিএম) শুরু করেছিলেন মার্চ। এটা একটি সচেতনতামূলক কর্মসূচি, যার কাজ বন্দুক সহিংসতা এবং নগর ও এর বাইরে মূল কারণ কমিয়ে আনা। সেই সঙ্গে সবার জন্য একটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর কমিউনিটি নিশ্চিত করা।
তার পরিচালিত এই আন্দোলন শুরুতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৩ সালে জুনে ৯০ দিনের কর্মসূচি হিসেবে, যার উদ্দেশ্য ছিল টরন্টোর অস্ত্র সহিংসতার সমাধান ও মূল উৎপাটন করা। কিন্তু গ্রেটার টরন্টো এরিয়াতে অস্ত্র সমস্যা অব্যাহত থাকায় আন্দোলনটি চলতে থাকে।
জেডজিভিএম ৪০টির বেশি ভিন্ন ভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন, সংস্থা ও কর্মসূচির সঙ্গে কাজ করেছে। এটা করা হয় শুরু থেকে টরন্টো ও এর পাশর্^বর্তী এলাকাগুলোতে এই সহিংসতার জন্য দায়ী কাঠামো ও আর্থ-সামাজিক অবস্থাকে খতিয়ে দেখা।
তিন দশক ধরে মার্চ তার স্বেচ্ছাসেবী কাজ করেছেন এবং এর বেশিরভাগই প্রাতমিকভাবে তরুণদের কোনো কিছুতে সম্পৃক্ত ও ক্ষমতায়ন করা। বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ ও অন্যান্য বর্ণভিত্তিক কমিউনিটিগুলো থেকে আসা মানুষদের। একই সঙ্গে তিনি আফ্রিকান অভিজ্ঞতার ওপর স্বঘোষিত ইতিহাসবিদ, যিনি আফ্রিকান-কানাডিয়ান কমিউনিটির উন্নয়নে নিরলস কাজ করে গেছেন।
গত কয়েক বছরে মার্চ বেশ কিছু সংস্থার পর্ষদ ও স্টিয়ারি কমিটিতে কাজ করেছেন। ইয়াং অ্যান্ড পোটেন্সিয়াল ফাদার, টাবোনো ইনস্টিটিউট এবং আফ্রিকান-আমেরিকান হেরিটেজ অ্যাসোসিয়েশন এর মধ্যে অন্যতম।
স্পাদিনা-ফোর্ট ইয়র্কের এনডিপি এমপিপি ক্রিস গ্লোভার মার্চকে অস্ত্র সহিংসতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মহান যোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অস্ত্র সহিংসতায় ২০১৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ছেলে কিসিঙ্গার গানকে হারান এভলিন ফক্স। একই সঙ্গে তিনি মার্চের ঘনিষ্ঠ বন্ধুও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, তার মৃত্যু কানাডার সবার জন্য বড় ধরনের ক্ষতি।
কমিউনিটি সেবার জন্য বেশ কিছু পুরস্কার পেয়েছেন মার্চ। ২০০৮ সালে তিনি অন্টারিও ভলান্টিয়ার সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড পান। ২০২১ সালে পান সিটি অব টরন্টো মেয়রের দেওয়া কমিউনিটি সেফটি অ্যাওয়ার্ড।

