
২০২৪ সালের একুশে বই মেলাতে প্রকাশিত হয় টরোন্টোর গুণী লেখিকা তাসরীনা শিখার তিনটি বই; ঘর বেঁধেছি নানা দেশে, ভালোবাসার অতীত নেই এবং Love has no past। গত ৮ জুনে টরন্টোর হাইওয়ে গস্পেল চার্চে বিপুল আনন্দ, উৎসাহ ও উদ্দীপনায় অনুষ্ঠিত হলো এই তিনটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন উৎসব। আয়োজনে অংশ নেন টরন্টোতে বসবাসরত সম্মানিত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ।
আয়োজনটি শুরু হয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ক্বণন সহ টরন্টোর গুণী শিল্পীদের সমবেত সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে এবং এর পরে মোড়ক উন্মোচন পর্বের সূচনা করা হয় । “ঘর বেঁধেছি নানা দেশে”-বইটির মোড়ক উন্মোচনের জন্য মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয় সাপ্তাহিক বাংলা মেইল সংবাদপত্রের সম্পাদক এবং এনআরবি টিভির সিইও শহিদুল ইসলাম মিন্টুকে।
তিনি বলেন সাপ্তাহিক বাংলামেইল বিভিন্ন খন্ডে লেখিকার লেখা প্রকাশ করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তিনি অত্যন্ত আনন্দিত সেই লেখাগুলো বই আকারে প্রকাশিত হওয়াতে। দ্বিতীয় বই “ভালোবাসার অতীত নেই” -এর মোড়ক উন্মোচনের জন্য মঞ্চে আসেন টরন্টোর আরেকজন গুণী লেখন জসিম মল্লিক। তিনি লেখিকার লেখার নানা বিশ্লেষণ করেন এবং এমন আরো অনেক বই লেখিকা সামনের দিনগুলোতে আমাদের উপহার দিবেন বলে আশা ব্যাক্ত করেন। ইংরেজিতে লেখা তৃতীয় বই Love has no past বইটির মোড়ক উন্মোচনের জন্য ডেকে নেয়া হয় সাপ্তাহিক বাংলা কাগজের সম্পদক এম আর জাহাঙ্গীরকে। তিনি লেখিকার সাফল্য কামনা করেন। আর এর মাঝেই শেষ হয় আয়োজনের প্রথম পর্বটি।
দ্বিতীয় পর্বে ছিল গান, কবিতা আবৃতি ও লেখিকাকে নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য। কবিতা আবৃত্তি করেন কবি ও বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব কানাডার সভাপতি মৌ মধুবন্তী, ক্বণনের সদস্য ও আবৃত্তিকার মাহামুদ হাসান বাবু, নৃত্যশিল্পী অরুণা হায়দার , বাচিক শিল্পী হিমাদ্রি রয় এবং লেখিকাকে কেন্দ্র করে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন “আলো দিয়ে যাই ” সংগঠনের পক্ষ থেকে জামিল বিন খলিল এবং লেখিকা শিউলি জাহান।
লেখিকার লেখা থেকে কিছু অংশ পাঠ করে শোনান মানবী। লেখিকা ও তাঁর লেখা নিয়ে আলোচনা করেন লেখক ও নাট্যকার আখতার হোসেন, কবি তাসলিমা হাসান , সংগঠক মোহাম্মদ আলমগীর এবং সাংবাদিক সুমন রহমান। সংগীত পরিবেশনে ছিলেন টরোন্টোর গুণী সংগীত শিল্পী বৃন্দ, তারা হলেন নাহিদ কবির কাকলি, চিত্র সরকার, জীবিনা সঞ্চিতা হক, সুমি বর্মন, দীপ্তি জাহান ও ফারহানা শান্তা।
আয়োজনের এক পর্যায়ে লেখিকাকে মঞ্চে ডাকা হয় এবং তার সাথে তার লেখা নিয়ে নানারকম অজানা তথ্য নিয়ে একটি পর্ব পরিচালনা করেন সঞ্চালিকা।
লেখিকা জানান তার লেখার চর্চা ছোটবেলা থেকে হয়ে থাকলেও ২০০০ সাল থেকে তিনি নিয়মিত লেখা শুরু করেন। লেখার ভাবনার কথা তিনি জানান তার পাঠকদের, সাধারণত প্রবাস জীবনের নানা দিকগুলো তিনি তার লেখাতে ফুটিয়ে তোলেন, এছাড়াও নারীবাদী কিছু লেখার দিকেও তার আগ্রহের কারনে সে বিষয়েও আলোকপাত করেন তিনি। তিনি জানান তিনি নিজেই নিজের অনুপ্রেরণা এবং ভবিষ্যতে আরো নতুন কিছু বিষয়ে তিনি লিখবেন। নতুন প্রজন্মের যারা বাংলা পড়তে পারেনা তাদের জন্য তিনি এবারে একটি বই প্রকাশ করেছেন ইংলিশে।
আয়োজনটির সঞ্চালনায় ছিলেন অজন্তা চৌধুরী এবং আয়োজনটির সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মুনির হোসেন বাবু এবং ফারহানা শান্তা। উল্লেখ্য এই বই তিনটি ২০২৪ সালের একুশের বই মেলাতে প্রকাশের পরে লেখিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা একবার মোড়ক উন্মোচন করেন বাংলাদেশে। এবারে টরোন্টোতে দ্বিতীয়বারের মতো বই তিনটির মোড়ক উন্মোচন হয়।

