
কানাডায় গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত তিন তরুণ বাংলাদেশী শিক্ষার্থীর দুজন, আরিয়ান আলম দীপ্ত ও শাহরিয়ার মাহির খান,-এর জানাজার নামাজে তাদের অন্তিম যাত্রায় শেষ বিদায় জানালো টরন্টোর বাঙালি ও মুসলমান অধিবাসীরা।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি সোমবার দুপুরে টরন্টো মহানগরীর বাঙালি অধ্যুষিত স্কারবরো এলাকার আল আবেদিন মসজিদে এই জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
টরন্টোয় বসবাসকারী বাঙালি ছাড়াও এই এলাকার অন্য সম্প্রদায়ের মুসলমান এবং জনপ্রতিনিধিরা এই জানাজায় যোগ দেন এবং মরহুম দুই শিক্ষার্থীর রূহের মাগফেরাত কামনা করেন।
অন্টারিও প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য ডলি বেগম এবং টরন্টো সিটি করপোরেশনের স্থানীয় কাউন্সিলর জানাজায় অংশ নেন।
একই দুর্ঘটনায় নিহত তিনজনের অপর জন এঞ্জেলা শ্রেয়া বাড়ৈ। তিনি খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী ছিলেন। গত রোববার টরন্টোর লোটাস ফিউনারেল হোম ও ক্রিমেশন সেন্টারে তার দর্শন ও শেষকৃত্য সম্পন হয়েছে।
এবারে তাঁদের অন্তিম যাত্রা মাতৃভূমি বাংলাদেশের উদ্দেশে।
স্মর্তব্য, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত্রে এক একক গাড়ি দুর্ঘটনায় ঐ গাড়ির চালক নিবিড় কুমার দে গুরুতর আহত হয় এবং অপর তিন আরোহী দীপ্ত, শাহরিয়ার ও এঞ্জেলা নিহত হয়। তাঁদের বয়স ১৭ থেকে ২১ বছর। তাঁরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে কানাডায় এসেছিলেন।
চালক ও আরোহীসহ বিএমডব্লিউ গাড়িটি ৪২৭ হাইওয়ে দিয়ে দক্ষিণ দিকে যাওয়ার সময় ডানডাস স্ট্রিট ওয়েস্ট-এ ওঠার আগে র্যাম্পে এই দুর্ঘটনা ঘটে। র্যাম্পের দেয়ালে বাড়ি খেয়ে গাড়িটি নিচের খাদে পড়ে যাওয়ার পর তা’ ডিগবাজী খেয়ে ডানডাস স্ট্রিটের দেয়ালে বাড়ি খায় এবং গাড়িতে আগুন ধরে যায়।
ফায়ার ব্রিগেডের কর্মীরা গাড়ির চালক ও অপর আরোহীদের জ্বলন্ত গাড়ি থেকে বের করে। পিছনের আসনের দীপ্ত ও শাহরিয়ারের মৃত্যু হয় ঘটনাস্থলেই। সামনের আসনের আরোহী এঞ্জেলাকে আশংকাজনক অবস্থায় ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ির চালক নিবিড় গুরুতর আহত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় সেন্ট মাইকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
অন্টারিও পুলিশ জানিয়েছে, মাত্রাতিরিক্ত গতির কারণে একক গাড়ি দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

