Latest Posts

কানাডিয়ান উদ্যোক্তার নামে মামলার হুমকি স্পাইস গার্লস’ আইনজীবীর

- Advertisement -
কানাডার অটোয়ার এক তরুণ উদ্যোক্তা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পপ ব্যান্ড স্পাইস গার্লস–এর সঙ্গে ট্রেডমার্ক বিরোধে জড়িয়ে পড়ে শেষ পর্যন্ত তার প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন

কানাডার অটোয়ার এক তরুণ উদ্যোক্তা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পপ ব্যান্ড স্পাইস গার্লস–এর সঙ্গে ট্রেডমার্ক বিরোধে জড়িয়ে পড়ে শেষ পর্যন্ত তার প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন। মাত্র ২২ বছর বয়সী লিলি বন্ড প্রায় এক দশক ধরে নিজের তৈরি মসলার ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন “স্পাইস গার্লজ” নামে। কিন্তু ব্যান্ডটির আইনজীবীদের আইনি হুমকির পর এখন তাকে সেই নামটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তটি এসেছে এমন এক সময়, যখন কানাডাজুড়ে বড় বড় গ্রোসারি স্টোর তার পণ্য বিক্রির আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছে। ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নাম পরিবর্তনের বাধ্যবাধকতা তরুণ উদ্যোক্তার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

- Advertisement -

লিলি বন্ডের উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প শুরু হয় ২০১৭ সালে। তখন তার বয়স মাত্র ১৩ বছর। স্কুলের জন্য একটি ল্যাপটপ কেনার অতিরিক্ত অর্থ জোগাড় করার উদ্দেশ্যে তিনি স্থানীয় কৃষক বাজারগুলোতে নিজ হাতে তৈরি ট্যাকো স্পাইস বিক্রি করা শুরু করেন। বন্ড এবং তার মা নিয়মিত এসব বাজারে যেতেন এবং ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় গ্রাহকদের কাছে তারা পরিচিত হয়ে ওঠেন “স্পাইস গার্লস” নামে। সেই জনপ্রিয়তাকে কেন্দ্র করেই বন্ড তার ব্র্যান্ডের নাম রাখেন “স্পাইস গার্লজ”।

তবে ব্র্যান্ডের নামের বানানে কিছু পার্থক্য রাখা হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ “Spice”-এর ক্ষেত্রে “I”-এর পরিবর্তে “Y” ব্যবহার করা হয়েছিল। “Girls”-এর পরিবর্তে লেখা হয়েছিল “Gurlz”। বন্ডের ধারণা ছিল, বানানের এই ভিন্নতা হয়তো কোনো আইনি জটিলতা তৈরি করবে না।

এক সাক্ষাৎকারে বন্ড বলেন, “আমাদের উৎপাদন কারখানা এখন মাত্র বড় হতে শুরু করেছে এবং গ্রোসারি স্টোরগুলোও আমার পণ্য রাখতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।” ব্যবসার ক্রমবর্ধমান সাফল্যের প্রেক্ষাপটে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তিনি তার ব্র্যান্ডের জন্য আনুষ্ঠানিক ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের আবেদন করেন। এই আবেদন করা হয় কানাডার ইনোভেশন, সায়েন্স অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কানাডার কাছে। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ২০২৩ সালের অক্টোবরে তার ট্রেডমার্ক আবেদন অনুমোদিত হয়। কিন্তু সেই অনুমোদন পাওয়ার তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে নতুন এক জটিলতার সৃষ্টি হয়।

আন্তর্জাতিক পপ গ্রুপ স্পাইস গার্লস–এর প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবীরা অটোয়ার আইনি প্রতিষ্ঠান স্মার্ট অ্যান্ড বিগারের মাধ্যমে লিলি বন্ডের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠান। কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠানো ওই চিঠিতে জানানো হয় যে, ব্যান্ডটির পক্ষ থেকে বন্ডের ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানো হচ্ছে। চিঠিতে দাবি করা হয়, “স্পাইস গার্লজ” নামটি বিখ্যাত ব্যান্ড “স্পাইস গার্লস”–এর সঙ্গে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং এটি তাদের প্রতিষ্ঠিত ট্রেডমার্কের লঙ্ঘন হতে পারে।
বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বন্ড বলেন, “তারা তো একটি আন্তর্জাতিক পপ গ্রুপ। আমাদের সম্পর্কে তারা কীভাবে জানল? তাদের এই আইনি পদক্ষেপ আমাকে সত্যিই বিভ্রান্ত করেছে।” তার মতে, তার ব্যবসা মূলত স্থানীয় পর্যায়ে শুরু হয়েছিল এবং মসলার বাজারে কাজ করছিল, যা সংগীত জগতের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

আইনি লড়াই দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল হতে পারে এই আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত লিলি বন্ড তার কোম্পানির নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও এতে তার ব্র্যান্ড পরিচিতি নতুন করে গড়ে তুলতে হবে, তবুও তিনি ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিখ্যাত ব্র্যান্ড বা ব্যান্ডের নামের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ কোনো নাম ব্যবহার করলে ট্রেডমার্ক বিরোধ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই ঘটনাটি নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ ব্যবসার নাম নির্বাচন করার সময় আইনি দিকগুলো ভালোভাবে যাচাই করা কতটা প্রয়োজন।

নাম পরিবর্তনের বাধ্যবাধকতা সত্ত্বেও লিলি বন্ড তার মসলার ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী। তিনি আশা করছেন, নতুন নাম নিয়েও তার পণ্য কানাডার বড় বাজারে জায়গা করে নিতে পারবে। এই ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়, বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে সামান্য সাদৃশ্যও কখনও কখনও ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য বড় আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবে একই সঙ্গে এটি তরুণ উদ্যোক্তার দৃঢ়তা এবং ব্যবসায়িক স্বপ্নেরও একটি উদাহরণ।

- Advertisement -

Latest Posts

Don't Miss

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.