
জাপানের আত্মসমর্পণ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির ৮০তম বার্ষিকী পালনের জন্য ওয়ার ভেটেরানদের পরিবারের সদস্যরা শুক্রবার অটোয়ায় ন্যাশনাল ওয়ার মিউজিয়ামে সমবেত হন। কানাডিয়ান সশস্ত্র বাহিনীর বাগলাররা যখন লাস্ট পোস্ট পারফর্ম করছিলেন তখন মধ্যআগস্টের তাপে সমবেত লোকজনের চোয়াল বেয়ে ঘাম নেমে আসছিল।
হং কং ভেটেরান্স কোমেমোরেটিভ অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মাইকেল বাবিন বলেন, যে ২ হাজার কানাডিয়ান ১৯৪১ সালে ব্যাটেল অব হং কংয়ে অংশ নিয়েছিলেন তাদের কেউই এখন আর বেঁচে নেই। এই যুদ্ধে যোগ দেওয়া জীবিত সর্বশেষ যোদ্ধার মৃত্যু হয় দেড় বছরের কিছু বেশি সময় আগে। ১০৬ বছর বেঁচে ছিলেন তিনি।
যুদ্ধের সঙ্গে যাদের সরাসরি সংযোগ রয়েছে বাবিন তাদের অন্যতম। শুক্রবার উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, যুদ্ধের ইতিহাস তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। সেই সঙ্গে যুদ্ধ করা এবং মারা যাওয়া অনেক কানাডিয়ানের গল্পও তাদের কাছে যাচ্ছে না। তাদের গল্প বলার মতো কোনো যোদ্ধা এখন আর বেঁচে নেই। সুতরাং, তাদের গল্পগুলো বলার এবং স্মরণ করার দায়িত্ব এখন তাদের সন্তান ও নাতি-নাতনীদের।
তিনি বলেন, অধিকাংশ কানাডিয়ান যুদ্ধের ইতিহাস জানেন না। কারণ, অধিকাংশ ঘটনাই ঘটেছে ইউরোপে। এগুলোই কানাডিয়ানরা জানে এবং স্কুলে পড়ানো হয়। কিন্তু ২ হাজার কানাডিয়ান এবং দুজন নার্সিং সিস্টারকে হং কংয়ে পাঠানো বিশেষ গুরুত্ব বহন করে এবং তাদের সবাই ছিলেন স্বেচ্ছাসেবী।
বাবিন বলেন, হং কংয়ে যাওয়া এক হাজার ৯৭৫ জন স্বেচ্ছাসেবকের মধ্যে এক হাজার ৪১৮ জন ফিরে আসেন। ২৯০ জন যুদ্ধে এবং কারাগারে মারা যান। ১৯৪১ সালের ১৫ আগস্টের যুদ্ধের একজন বন্দী হিসেবে তার নিজের বাবা আলফ্রেড বাবিন চার বছর পর মুক্তি পান।
মিটজি রস বলেন, তার বাবা ল্যান্স রস ঘাড়ে আঘাত পেয়েছিলেন। তারপরও যুদ্ধে তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন। এরপর তিনি ধরা পড়েন এবং যুদ্ধবন্দী হিসেবে খনিতে কাজ করার জন্য তাকে জাপানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই ক্যাম্পে থাকা সবাইকেই খনি অথবা শিপইয়ার্ডে কাজ করতে হতো। এটা সত্যিই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা। তারা যখন ফিরে আসেন তখন তাদের প্রত্যেকেই পিটিএসডিতে ভুগছিলেন। কিন্তু সেটা কী সে সময় কেউই তা জানত না। কানাডায় ফেরার পর তাদের প্রত্যেককেই কঠিন জীবনযাপনের মধ্যে পড়তে হয়।

