
ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে শুল্ক দ্বিগুন করে ৫০ শতাংশে উন্নীত করতে চান বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার সন্ধ্যায় পিটসবার্গের কাছে আরভিন প্ল্যান্টের কাছে সমাবেশ চলাকালে প্রাথমিকভাবে শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেণ ট্রাম্প। উৎফুল্ল ইস্পাত খাতের কর্মীদের তিনি বলেন, বর্ধিত এই শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত শিল্পকে আরও বেশি সুরক্ষা দেবে।
সমাবেশের পর সামিিজক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, একই সঙ্গে তিনি অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর শুল্কও ৫০ শতাংশে উন্নীত করবেন।
ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, আমাদের ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম শিল্প এমন জায়গায় ফিরবে যা আগে কখনো ছিল না। এটা আমাদের ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম কর্মীদের জন্য আরেকটি বড় খবর। মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন।
এর আগে গত মার্চে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। ১৯৬২ সালের বাণিজ্য সম্প্রসারণ আইনের ২৩২ ধারা প্রয়োগ করে এই শুল্ক বাড়ান তিনি। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, এটা উৎপাদনকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।
কানাডা যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় ইস্পাত সরবরাহকারী দেশ। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়ার মোট ইস্পাতের ২৫ শতাংশই গেছে কানাডা থেকে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত মোট ইস্পাতের এক-চতুর্থাংশ কানাডায় উৎপাদিত।
ট্রাম্প শুক্রবার বলেন, তিনি ৪০ শতাংশ শুল্কের কথা ভাবছিলেন। কিন্তু গ্রুপটি চায় ৫০ শতাংশ করতে।
ট্রাম্পের এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে ইস্পাত পণ্যের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়ে গেছে। কানাডিয়ান লেবার কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট বিয়া ব্রাস্কি বলেন, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের শুল্ক দ্বিগুন করতে ট্রাম্পের পরিকল্পনা কানাডিয়ান কর্মীদের আরেকটি প্রত্যক্ষ আঘাত। হঠকারী এই পদক্ষেপের ধাক্কা কানাডিয়ান অর্থনীতিতে লাগবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আমাদের জন্য আমেরিকার বাজার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। বিপর্যয়ে পড়বে কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম শিল্প। সেই সঙ্গে ইউনিয়নভুক্ত ভালো বেতনের বিপুল সংখ্যক চাকরি হুমকিতে পড়বে।
কানাডিয়ান চেম্বার অব কমাসের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্যান্ডেস লেইং এক বিবৃতিতে বলেছেন, ২০১৮ সালে সর্বশেষ ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের মতো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।

