
২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে গুটিগুটি পা ফেলে শুরু করে, বছর না ঘুরতেই প্রবল প্রতাপের সাথে এগিয়ে চলেছে রূপতনু মিউজিক একাডেমী (টরন্টো)। আগামী ২৭শে এপ্রিল মহা সমারোহে রূপতনু মিউজিক একাডেমী (টরন্টো) উদযাপন করতে চলেছে তাদের প্রথম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানটিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী তপন চৌধুরী এবং সকলের পূজনীয় গীটারশিল্পী এনামুল কবির। হোপ ইউনাইটেড চার্চ মিলনায়তনে আগামী রবিবার অনুষ্ঠিতব্য এই আয়োজনটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৬:৩০ এ। এই অনুষ্ঠানটিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সাজসাজ রব পড়ে গিয়েছে শহরে এবং নিয়মিত অনুশীলন চলছে অনুষ্ঠানটির ছাত্রছাত্রীদের নানান পরিবেশনাগুলোর।
প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার রূপতনু শর্মা শিশুকাল থেকেই সঙ্গীতামোদি পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন। তাঁর সঙ্গীতে হাতে খড়ি হয় ১৯৭৪ সালে। এরপর ১৯৭৭, ১৯৭৮, ১৯৭৯,ও ১৯৮০ সালে ধারাবাহিকভাবে তিনি গানে প্রেসিডেন্ট পদক প্রাপ্ত হন। গানের উপর প্রবল দক্ষতা নিয়েই রূপতনু শর্মা কীবোর্ড শিক্ষায় তাঁর মনোনিবেশ করেন। ১৯৯১ সাল থেকে তিনি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কলকাতার দেবাশীষ সাহার কাছ থেকে কীবোর্ড শিক্ষা শুরু করেন এবং ক্রমশ বাংলাদেশে তুমুল জনপ্রিয়, অগ্রগণ্য, এবং অনন্য এক নাম হয়ে উঠেন কীবোর্ড বাদনার ক্ষেত্রে।
রূপতনু শর্মা বাংলাদেশে থাকাকালীন স্টুডিও, টিভি, এবং মঞ্চ মাতিয়েছেন সুরের মেলায় একের পর এক, সঙ্গত করেছেন শিশু- কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রায় সকল বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পীদের সঙ্গে। বাংলাদেশের কিংবদন্তী শিল্পীকুল, যেমন রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, এন্ড্রু কিশোর থেকে শুরু করে এই প্রজন্মের প্রতিষ্ঠিত সকল শিল্পীর সাথেই রূপতনু শর্মা দেশে এবং বিদেশে অগণিত অনুষ্ঠানে তাঁর কিবোর্ডের জাদুকরী আবেশ ছড়িয়ে এসেছেন এঅবধি। কানাডাতে এসেও তিনি স্বীয় সুরের জাদুতে আচ্ছন্ন রেখেছেন সঙ্গীতসমাজকে। মন্ট্রিয়ালে তাঁর অসংখ্য সাফল্যমণ্ডিত পরেবেশনার ধারাবাহিকতায় তিনি বর্তমানে টরন্টোতে নিয়মিতভাবে সকল লক্ষ্যনীয় এবং উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠানগুলোতে কীবোর্ড বাজিয়ে দর্শকশ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছেন তাঁর সুরের জাদুতে। শাস্ত্রীয়সঙ্গীতের উপর দক্ষ এই কীবোর্ডবাদক রূপতনু শর্মা শুধু বাংলাদেশই নয়, অনেক উল্লেখযোগ্য কাজ করেছেন ওপারবাংলার গুণী অনেক শিল্পীর সাথেও, বিশ্বজুড়ে তাঁর সুরের মূর্ছনাতে আবিষ্ট রেখেছেন শ্রোতাদের। মৃদুভাষী, সল্পভাষী এই সুরের জাদুকর রূপতনু শর্মা তাঁর নম্র আচরণের কারণে সবারই বেশ প্রিয় পাত্র, প্রিয়জন।
রূপতনু শর্মা তাঁর এক সাক্ষাৎকারে এই প্রতিবেদককে জানান, সব বয়সের মানুষের কাছে এই মিষ্টি বাদ্যযন্ত্রটি (কীবোর্ড) শেখানোর মধ্য দিয়ে শুদ্ধ সুর ছড়িয়ে দেয়াই তাঁর প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য। ভবিষ্যতে অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র নিয়েও তাঁর কাজ করার ইচ্ছে আছে। রূপতনু শর্মার এই বিশেষ অদম্য আগ্রহ আর প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়ে তাঁর এই বর্ষপূর্তির আয়োজনে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে এগিয়ে এসেছেন শহরের সকল প্রসিদ্ধ স্পন্সরেরা আর মিডিয়াগুলো। এরকমের একটি শুদ্ধ সঙ্গীতশিক্ষা আর সঙ্গীতচর্চার প্রয়াসকে প্রচার আর প্রসার করতে আপনার উপস্থিতি রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ২৫৫০ ড্যানফোর্থ এভিনিউতে অনুষ্ঠিতব্য এই আয়োজনে সবাইকে উপস্থিত থাকবার জন্য রূপতনু শর্মা বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।

