
ডারহাম অঞ্চলের পুলিশ বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। বিপুল ব্যয়সংবলিত দশ বছর মেয়াদি পরিকল্পনাটি সীমিত পরিসরের আলোচনায় আটকে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন জনপ্রতিনিধি। তাদের দাবি, এত বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পুরো আঞ্চলিক কাউন্সিলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। স্থানীয় বাসন্দা অরিন্দম প্রকাশ একইরকম ক্ষোভ জানালেন।
ওশাওয়ার কাউন্সিলর ব্রায়ান নিকলসন ও টিটো দান্তে মারিমপিয়েত্রি এখন বিষয়টি আবার পূর্ণ কাউন্সিলের আলোচনায় তুলতে চান। তাদের অভিযোগ, অল্পসংখ্যক সদস্যের একটি কমিটির বৈঠকে এমন গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা ভবিষ্যতের বাজেট আলোচনায় ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যেখানে সব সদস্যের মতামত প্রতিফলিত হয়নি।
সম্প্রতি অর্থ ও প্রশাসনসংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে আঞ্চলিক চেয়ারম্যান জন হেনরির প্রস্তাবের ভিত্তিতে পুলিশ বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী পরিকল্পনা তাৎক্ষণিক আলোচনার বাইরে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে ওই বৈঠকে সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।
নতুন প্রস্তাবে দুই কাউন্সিলর শুধু আলোচনায় ফেরানোর কথাই বলছেন না, বরং পুরো পরিকল্পনার অর্থনৈতিক ভিত্তি নতুনভাবে খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন। তাদের মতে, সময়সূচি, অর্থায়ন কাঠামো এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ ছাড়া এত বড় প্রকল্প এগোনো ঠিক হবে না।
একই সঙ্গে তারা আঞ্চলিক প্রশাসনকে সম্ভাব্য সব অর্থায়নের পথ অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে সম্পত্তিকরের ওপর সম্ভাব্য চাপ কমাতে বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থার সুযোগ আছে কি না, সেটি বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করতে চান তারা।
দুই কাউন্সিলরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব হলো প্রাদেশিক ও ফেডারেল সরকারের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা। তাদের যুক্তি, জননিরাপত্তাসংক্রান্ত বৃহৎ বিনিয়োগের পুরো দায় স্থানীয় করদাতাদের কাঁধে চাপিয়ে দিলে ভবিষ্যতে আর্থিক চাপ আরও বাড়তে পারে।
নিকলসনের মতে, বর্তমানে যে অর্থায়ন কাঠামো অনুসরণ করা হচ্ছে, সেটি সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে আর খাপ খায় না। তাই নতুন ব্যয় পরিকল্পনার আগে ব্যয়ের পরিমাণ, বাস্তবায়নের সময় এবং করদাতাদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গভীর মূল্যায়ন প্রয়োজন।
আগামী কাউন্সিল বৈঠকে বিষয়টি উঠলে ডারহাম অঞ্চলের পুলিশ অবকাঠামো পরিকল্পনা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে নিরাপত্তা উন্নয়ন, সরকারি ব্যয় এবং করের বোঝা—এই তিনটি প্রশ্নই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসতে পারে।
হেলাল চৌধুরী : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

