
টরন্টোর বাসিন্দাদের অনেকেই সম্প্রতি একটি অদ্ভুত পরিবর্তন চোখে পড়ছে। যেসব সড়ক মেরামত, ফুটপাত সংস্কার কিংবা অবকাঠামোগত কাজ সাধারণত মাসের পর মাস ধরে চলে, তার কিছু এখন তুলনামূলক দ্রুত শেষ হচ্ছে। এতে নতুন প্রশ্ন উঠেছে নগরজুড়ে—বিশ্বকাপ সামনে আসতেই কি প্রশাসনের কর্মতৎপরতায় হঠাৎ গতি এসেছে? টরন্টোর ডাউনটাউনে বসবাসরত টিনা জেফার বললেন, বছরের পর বছর পড়ে থাকা সংস্কার কাজ এখন দ্রুত শেষ হচ্ছে, এটাই আমাদের আনন্দ।
আগামী আন্তর্জাতিক ফুটবল আসরের প্রস্তুতিকে সামনে রেখে নগর প্রশাসন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্প দ্রুত শেষ করার কৌশল নিয়েছে। কারণ নির্দিষ্ট সময়ের পর নগরীর কিছু প্রধান সড়কপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নির্মাণকাজ সীমিত করা হবে।
এই তৎপরতার আওতায় পিটার স্ট্রিটের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পুনর্নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে। গত বছর পিছিয়ে যাওয়া এই কাজ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাইকেল আরোহীদের জন্য কিছু অংশে নতুন নিরাপত্তা বিভাজকও স্থাপন করা হয়েছে।
নগরীর আরও কয়েকটি ব্যস্ত এলাকাতেও কাজের গতি বেড়েছে। কিং ও জন সড়কের সংযোগস্থল নতুনভাবে সংস্কার করা হয়েছে, সানকোফা স্কয়ারের আশপাশের ব্যস্ত পথচারীপথ পুনর্গঠন করা হয়েছে এবং সেন্ট লরেন্স মার্কেট এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পাথরের অংশ পরিবর্তন করা হয়েছে। পাশাপাশি নগরজুড়ে বিভিন্ন রক্ষণাবেক্ষণমূলক কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
নগর প্রশাসনের বক্তব্য, এসব প্রকল্প নতুন নয়; এগুলো আগেই চলতি বছরের পরিকল্পনায় ছিল। তবে বিশ্বকাপের সময় ঘনিয়ে আসায় কাজের সময়সূচি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে নির্মাণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার আগেই যতটা সম্ভব কাজ শেষ করা যায়।
তবে এখানেই নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। নগর পরিকল্পনা বিশ্লেষকদের মতে, যদি বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনের সময় কাজের গতি বাড়ানো সম্ভব হয়, তাহলে সাধারণ সময়ে একই ধরনের দক্ষতা কেন বজায় রাখা যায় না? তাদের ভাষায়, ধীরগতির প্রকল্পের মূল্য শুধু বাজেটের হিসাবেই সীমাবদ্ধ থাকে না; নাগরিকদের হতাশা, যানজট, সময় অপচয় এবং উৎপাদনশীলতার ক্ষতির মধ্যেও সেই মূল্য দিতে হয়।
বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করেন, এই জরুরি কর্মসংস্কৃতি শুধু সড়ক সংস্কারে আটকে রাখা উচিত নয়। গণপরিবহন ব্যবস্থাপনাতেও একই মানসিকতা প্রয়োজন। কারণ সময়মতো সেবা, নির্ভরযোগ্যতা এবং যাত্রী সন্তুষ্টি নিয়ে নগরীর গণপরিবহনব্যবস্থা ইতোমধ্যে চাপে রয়েছে।
তাদের মতে, বড় আয়োজন কখনও কখনও শহরকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে, যা ইতিবাচকও হতে পারে। তবে প্রকৃত পরীক্ষা হবে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর। যদি তখনও একই গতিতে কাজ সম্পন্ন করা যায়, একই অগ্রাধিকার দিয়ে নাগরিক সুবিধাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাহলে সেটিই হবে টরন্টোর নগর পরিচালনার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন।
হেলাল চৌধুরী : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

