
আফ্রিকার কয়েকটি দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে গেছে কানাডা। রোগটি দেশের ভেতরে ঢোকার আগেই ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে আনতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং অভিবাসন কার্যক্রমে একাধিক নতুন বিধিনিষেধ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফেডারেল সরকার। গতকাল ব্যবসায়িক ট্যুর শেষ করে সুদান থেকে টরন্টো ফিরেছেন জামাল আব্দুল্লাহ। এই প্রতিবেদককে তিনি বললেন, টরন্টো পিয়ারসনে তাকে বেশ কিছু প্রশ্ন করা হয়েছে।
সরকারি পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানে সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে নতুন পদক্ষেপ কার্যকর করা হচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত কানাডায় এই রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো ভ্রমণজনিত সংক্রমণের তথ্য নেই, তবুও সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে আগাম প্রস্তুতির পথ বেছে নিয়েছে সরকার।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে আক্রান্ত অঞ্চলগুলোতে অবস্থান করেছেন এমন ব্যক্তিরা কানাডায় প্রবেশ করলে তাদের বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের মুখোমুখি হতে হবে। নাগরিক, স্থায়ী বাসিন্দা, আদিবাসী পরিচয়ধারী ব্যক্তি কিংবা বিদেশি নাগরিক—সবার ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট জনস্বাস্থ্য নির্দেশনা মানা বাধ্যতামূলক হবে।
যাত্রীদের কারও মধ্যে শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণ পাওয়া গেলে তাকে সরাসরি চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে পাঠানো হবে। আর যাদের মধ্যে উপসর্গ থাকবে না, তাদের কয়েক সপ্তাহের জন্য আলাদা অবস্থানে থাকার পরিকল্পনা দেখাতে হবে এবং সেই নিয়ম মেনে চলতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইবোলা খুব দ্রুত গুরুতর অবস্থায় পৌঁছাতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। আক্রান্ত মানুষের দেহতরলের সংস্পর্শের মাধ্যমে রোগটি ছড়ায়। বর্তমানে আফ্রিকার কয়েকটি অঞ্চলে সংক্রমণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যমান পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে।
সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অভিবাসন কার্যক্রমেও পরিবর্তন আনছে কানাডা। আক্রান্ত তিন দেশের বাসিন্দাদের কিছু আবেদনপত্রের প্রক্রিয়া ধীর করা হবে এবং কয়েক ধরনের অনুমতিপত্রের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে। এর মধ্যে স্থায়ী বসবাস, অস্থায়ী প্রবেশ, পড়াশোনা এবং কাজের অনুমতির আবেদনও রয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা আপাতত কয়েক মাস বহাল থাকবে। পরিস্থিতির অগ্রগতি, সংক্রমণের বিস্তার এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থাৎ, রোগটি এখনো কানাডার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত না হলেও সতর্কতার জায়গায় কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় অটোয়া।
হেলাল চৌধুরী : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

