
ক্ষত নিরাময় ও জবাবদিহিতার আশায় বছরের পর বছর ধরে তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করা আবাসিক স্কুলের হাজারো ভুক্তভোগীরা তাদের সাক্ষ্যের সর্ববৃহৎ ভা-ার হারানোর মুখে পড়েছেন। কারণ, আগামী বছর এগুলো ধ্বংস করার কথা রয়েছে।
যদিও সারভাইভরস সেক্রেটারিয়েট টরন্টো মেট্রোপলিটান ইউনিভার্সিটির (টিএমইউ) একটি গবেষণা গ্রুপ এসব বয়ান সংরক্ষণে কাজ করছে। কানাডায় চালু হওয়া প্রথম এবং সবচেয়ে লম্বা সময় ধরে চলা আবাসিক স্কুল হচ্ছে মোহক ইনস্টিটিউট। ব্র্যান্টফোর্ডে ১৪০ বছর কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল স্কুলটি।
তারা একে বলতেন মাশ হো, কারণ শিশুদের কেবলমাত্র মাশই (জাউ ভাতের মতো খাবার) দেওয়া হতো।
লাফরেমে এবং বোম্বারির পাশাপাশি অন্য হাজারো ভুক্তভোগীর অভিজ্ঞতা দেশজুড়ে আবাসিক স্কুলগুলোতে আদিবাসী শিশুরা দশকের পর দশক ধরে যে দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে গেছে তার ওপর আলোকপাত করেছে।
একজন ভুক্তভোগী বলেন, আমার বয়ানটি সংরক্ষিত হলো কি হলো তাতে আমার কোনো যায় আসে না। কিন্তু আমি মনে করি এগুলো সংরক্ষণ করা উচিত, কারণ তা না হলে ইতিহাস মুছে যাবে। তারা বলবে, আমরা তাদেরকে অর্থ পরিশোধ করেছি এবং তারা যে দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে গেছে সেজন্য তাদেরকে অর্থ দিয়েছি। এবং সব ধুয়েমুছে যাবে। কোনো কিছু যে ঘটেছিল তার কোনো প্রমাণ অবশিষ্ট থাকবে না।
ইন্ডিয়ান রেসিডেন্সিয়াল স্কুলস সেটেলমেন্ট এগ্রিমেন্টের অংশ হিসেবে ছয় বছর ধরে ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। একটি প্রস্তাব আনতে ও সরকার সমর্থিত ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ করতে ২০০৭ সালে এটি কার্যকর হয়। ভুক্তভোগীরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং নিরপক্ষে পর্যালোচনার পর আর্থিক ক্ষতিপূরণ পান।
একাধিক ভুক্তভোগী এই প্রতিবেদককে আরো বলেন, রেকর্ড খুঁজে বের করার দায়িত্ব ভুক্তভোগীদের ওপরই পড়েছে। কিন্তু অনেকেই এটা ভেবে দেখছেন না যে, ভুক্তভোগীদের অনেকের বয়সই এখন ৭০, ৮০ ও ৯০ এর ঘরে। যেসব আদিবাসী শিশু আর কখনোই ঘরে ফেরেনি তাদের অবস্থান শনাক্ত ও চিহ্নিত করতে কাজ করা সংস্থাগুলোর কাজে আসবে এসব সাক্ষ্য।
উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও টিএমইউ অধ্যাপক কনি ওয়াকার অধিক সংক্ষক স্বাক্ষ্য সংরক্ষণ এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানানোর সময়সীমা সম্পর্কে সচেতনা সৃষ্টির আশায় গবেষণা প্রকল্পটি চালু করেন।
হেলাল চৌধুরী : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

