
একসময়ের জনপ্রিয় পরিবহন ভায়া রেল ধীরে ধীরে যাত্রী সেবার মান নিচে নামছে। ভায়া রেলের একাধিক নিয়মিত যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে এমনই ধারণা পাওয়া গেছে। নিয়মিত টরন্টো থেকে মন্ট্রিয়ল যাতায়াত করেন হাফিজ রহমান। বিশেষ করে শীতকালীন সময়ে তিনি লংড্রাইভ এড়িয়ে চলেন। তখন তার একমাত্র ভরসা ভায়া রেল। আক্ষেপ করে বললেন, সর্বশেষ টরন্টো থেকে মন্ট্রিয়ল যাত্রার ট্রেন ৪৫ মিনিট লেট ছিলো। একটা মিটিংয়ে আমি আধা ঘন্টা লেট হয়েছি। ভায়া রেল সময় মেনে চলবে না এটা ভাবতেই পারি না।
ভায়া রেলের এই পরিস্থিতি গত ১০ বছরের। আগে মোটেও বিশ্বাসযোগ্য ছিলো না যে, সময় মেনে চলবে না ভায়া রেল। ২০২৪-২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে সময়ানুবর্তিতার হার ছিল হতাশাজনক ৩০ শতাংশ। ভায়া রেলের পুরো বছরের গড় স্কোর ২০২৪ সালে কমে দাঁড়িয়েছিল গড়ে ৫১ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৭১ শতাংশ।
গ্রাহক সন্তুষ্টির গুরুত্বপূর্ণ চালক হচ্ছে সময়ানুবর্তিতা। সময়ানুবর্তিতায় ঘাটতি অন্য দুই পরিবহন মাধ্যমের কাছে যাত্রী হারানোর ঝুঁকি তৈরি করছে। এটা শেষ পর্যন্ত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রায় ঝুঁকি তৈরি করছে । পাশাপাশি ভায়া রেলের কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সক্ষমতাকে দুর্বল করছে। ভায়া রেল চলাচলের ট্র্যাকের মাত্র ৩ শতাংশ তাদের মালিকনায়। বাকি ট্র্যাকের মালিক দেশের প্রধান দুই ফ্রেইট রেলওয়ে এবং আঞ্চলিক ট্রানজিট এজেন্সিগুলো। এর ব্যস্তুতম দুই হাব টরন্টোর ইউনিয়ন স্টেশন এবং মন্ট্রিয়লের সেন্ট্রাল স্টেশনের মালিকও বাইরের সংস্থাগুলো।
জানা গেছে, ভায়ার সময়ানুবর্তিতা বেশ কিছু কারণে প্রভাবিত হয়। অন্য অপারেটরদের সঙ্গে ট্র্যাক ভাগাভাগি করা, ট্র্যাকের মালিকদের গতির সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়া এবং নতুন ও পুরোনো ট্রেনের কারিগরি ত্রুটি এর মধ্যে অন্যতম।
ট্র্যাক মালিকদের একটি অর্থাৎ কানাডিয়ান ন্যাশনাল রেলওয়ে কোম্পানি । তাদের ব্যস্ততম করিডোর টরন্টো ও কুইবেক সিটির মধ্যবর্তী ট্র্যাকের সর্বোচ্চ গতিসীমা ২০২৪ সালের অক্টোবরে আরোপ করে। এই গতিসীমা ভায়ার সময়ানুবর্তীতায় লক্ষণীয় প্রভাব ফেলেছে। পরিস্থিতি যাই হোক না কেনো কানাডিয়ান ন্যাশনাল রেলওয়ে কোম্পানি তার ক্রেডিবিলিটি ধরে রাখার আপ্রাণ চেস্টা করবেন এমন আশাবাদ ভায়ারেল প্রেমী যাত্রীদের। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারলে পিছিয়ে যাবে ভায়ারেলের বিকাশ।
হেলাল চৌধুরী : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

