
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বৃহত্তম শহর ভ্যানকুভারের মেয়র কেন সিমকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। চীনা ভাষাভাষী কমিউনিটির নেতারা দাবি তুলেছেন যে, ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মেয়রের শুধু একজন কাউন্সিলরের কাছে ক্ষমা চাওয়া যথেষ্ট নয় বরং যেসব চীনা ভাষার সাংবাদিক ও ইনফ্লুয়েন্সারদের সামনে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, তাদের কাছেও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত ৬ ফেব্রুয়ারি, যখন মেয়র সিম একটি সংবাদ ব্রিফিংয়ে শহরের কাউন্সিলর শন ওরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। চীনা ভাষার সংবাদমাধ্যমের জন্য আয়োজিত ওই ব্রিফিংয়ে তিনি দাবি করেন যে, বড়দিনের সময় ওর নাকি রাস্তার গৃহহীন মানুষের হাতে অবৈধ মাদক তুলে দিয়েছিলেন। অভিযোগটি দ্রুতই বিতর্কের জন্ম দেয় এবং পরে তা ভুল বলে প্রমাণিত হয়।
গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেয়র সিম জানান, তিনি কাউন্সিলর শন ওরের কাছে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। তার ভাষায়, ঘটনাটি ছিল ভুল বোঝাবুঝির ফল এবং তিনি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে সমালোচকদের মতে, বিষয়টি এখানেই শেষ হওয়ার মতো নয়।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) সাবেক এমএলএ হেনরি ইয়ারো বলেছেন, শুধু ওরের কাছে ক্ষমা চাওয়া যথেষ্ট নয়। কারণ অভিযোগটি প্রথমে যে পরিবেশে করা হয়েছিল অর্থাৎ চীনা ভাষাভাষী সাংবাদিক ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের উপস্থিতিতে সেই একই কমিউনিটির কাছেও মেয়রের ক্ষমা চাওয়া উচিত। ইয়ারোর মতে, মেয়রের উচিত সরাসরি সেই গ্রুপের কাছে গিয়ে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করা এবং স্পষ্টভাবে জানানো যে অভিযোগটি ভিত্তিহীন ছিল। তিনি আরও বলেন, মেয়রের এই বিষয়ে ধারাবাহিক নীরবতা ও বিলম্ব দেখে মনে হচ্ছে তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন না, বরং ভুলের সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ইয়ারো দাবি করেন, চীনা ভাষাভাষী অনেক মানুষ এখনও জানেন না যে অভিযোগটি ভুল ছিল এবং মেয়র ইতোমধ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, যারা মূলত চীনা ভাষার সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভর করেন, তারা এখনো মেয়রের ভুল বক্তব্য ও পরে দেওয়া ক্ষমা প্রার্থনার খবর সম্পর্কে অবগত নন। তার মতে, এ ধরনের তথ্য বিভ্রান্তি কমিউনিটির মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে।
ইয়ারো আরও বলেন, যদিও তার পরিবারের কিছু সদস্য মেয়র সিমের দল এবিসি পার্টির মাদকবিরোধী রাজনৈতিক অবস্থানের ব্যাপারে সচেতন, তবুও তারা এই নির্দিষ্ট ঘটনার সংশোধিত তথ্য এখনো জানতে পারেননি। এদিকে মেয়র সিমের দল এবিসি পার্টির আরেক সদস্য কাউন্সিলর লেনি ঝাওও বিতর্কের মধ্যে জড়িয়ে পড়েন। তিনি গত সপ্তাহে ইংরেজি ভাষায় দেওয়া এক বিবৃতিতে ক্ষমা চেয়েছেন, কারণ তিনি আংশিকভাবে সেই অসত্য অভিযোগটি পুনরায় উল্লেখ করেছিলেন। তবে সমালোচকরা বলেছেন, তার ক্ষমা প্রার্থনাতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি রয়েছে। ঝাও ইংরেজিতে বিবৃতি দিলেও চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইচ্যাটে তাৎক্ষণিকভাবে সেই ক্ষমা প্রার্থনা শেয়ার করেননি।
উল্লেখ্য, এই উইচ্যাট প্ল্যাটফর্মেই তিনি আগে একটি ভিডিও বিবৃতি দিয়েছিলেন যেখানে সেই ভুল তথ্য পুনরায় উল্লেখ করা হয়েছিল। ফলে অনেকের মতে, একই মাধ্যমে ক্ষমা প্রার্থনা না করা তথ্য সংশোধনের প্রক্রিয়াকে অসম্পূর্ণ করে রেখেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা ভ্যানকুভারের বহুসাংস্কৃতিক রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে। শহরটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চীনা ভাষাভাষী বাসিন্দা রয়েছে এবং স্থানীয় রাজনীতিতে তাদের প্রভাবও ক্রমবর্ধমান। তাই অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই ধরনের ভুল তথ্য বা যোগাযোগের ঘাটতি দ্রুতই কমিউনিটির মধ্যে অবিশ্বাসের জন্ম দিতে পারে। ফলে চীনা ভাষাভাষী কমিউনিটির নেতারা এখন জোর দিয়ে বলছেন বিশ্বাস পুনর্গঠনের জন্য মেয়র সিমের উচিত প্রকাশ্যে সেই একই কমিউনিটির কাছে ক্ষমা চাওয়া, যেখানে প্রথমে অভিযোগটি তোলা হয়েছিল।
এখন দেখার বিষয়, মেয়র কেন সিম এই দাবির প্রতি কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানান এবং বিতর্কটি কীভাবে শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিকভাবে প্রভাব ফেলে।

