
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব ইতিমধ্যেই উত্তর আমেরিকার জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে কানাডার গ্রেটার টরন্টো এরিয়া (জিটিএ)-তে গ্যাসোলিনের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।
পেট্রোলিয়াম বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান এন-প্রো ইন্টারন্যাশনালের প্রধান বিশ্লেষক রজার ম্যাকনাইট জানিয়েছেন, বুধবার গ্রেটার টরন্টো অঞ্চলে গ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ৩ সেন্ট বেড়ে প্রায় ১.৩৮৯ ডলার হয়েছে। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে গ্যাসের দাম ভবিষ্যতে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত তীব্র হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। ফলে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাবে এবং তার প্রভাব পড়বে গ্যাসোলিনের দামে।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ইরান প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রপ্তানি করে থাকে। এর বড় অংশই যায় চিনে। এই সরবরাহের একটি বড় অংশ পরিবহন করা হয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হয় অথবা এটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
রজার ম্যাকনাইট বলেন, “হরমুজ প্রণালী যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো কার্যত সেখানে আটকে পড়বে। সেগুলো অন্য কোথাও যেতে পারবে না। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ হঠাৎ কমে যাবে এবং দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করবে।”
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ৬৭ ডলার। তবে সংঘাতের কারণে যদি দাম বেড়ে ৮০ ডলার হয়, তাহলে গ্যাসের দাম রাতারাতি প্রায় ৮ সেন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে।
এছাড়া তেলের দাম যদি ৯০ ডলার প্রতি ব্যারেল পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তাহলে গ্যাসোলিনের দাম লিটারপ্রতি প্রায় ১৪ সেন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে। আর যদি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার প্রতি ব্যারেল ছুঁয়ে ফেলে, তাহলে ভোক্তাদের প্রতি লিটার গ্যাসের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ২০ সেন্ট বেশি দিতে হতে পারে।
জ্বালানি বাজারের বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বৃদ্ধি শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি পরিবহন ব্যয়, উৎপাদন খরচ এবং পণ্যের বাজারমূল্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অনিশ্চয়তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপর নির্ভর করছে ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের দাম এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা।

