
ডা. মাইকেল মান্তিল যখন তার পরিবার নিয়ে টরন্টোতে চলে আসেন তখন তার চিন্তায় ছিল নতুন করে শুরু করা। এর পরিবর্তে তিন বছর পরও ২ হাজার ১০০ রোগীর পারিবারিক এই চিকিৎসক এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। এখনো তিনি পারমানেন্ট রেসিডেন্সির অপেক্ষায় রয়েছেন। অথচ পারমানেন্ট রেসিডেন্সি পেলে তিনি তার শিকড় পুরোপুরি টরন্টোতে গাড়তে পারতেন, যে শহরটাকে তিনি বাড়ি বলে ভাবতে ভালোবাসেন।
এক সাক্ষাৎকারে ৫০ বছর বয়সী এই চিকিৎসক বলেন, এটা একটা দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল যাত্রা।
তিনি, তার স্ত্রী এবং ১৫, ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী তিন সন্তান তিন বছর আগে পাইনহার্স্ট থেকে টরন্টোতে আসেন। ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে আন্তুল কানাডার সার্বজনিন স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্কে কাজ করতে উদ্গ্রিব ছিলেন। সেই আসায় তিনি আগের কর্মস্থল ত্যাগ করেন, যেখানে তার কাছে রোগীর চেয়ে অর্থকেই বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয় বলে মনে হয়েছিল তার।
কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অব অন্টারিও (সিপিএসও) লাইসেন্স ও অস্থায়ী কাজের অনুমতি পাওয়ার পর আলবানি মেডিকেল ক্লিনিকে প্র্যাক্টিস শুরু করেন আন্তুল। বর্তমানে তার ২ হাজার ১০০ এর বেশি রোগী। যেহেতু ক্লিনিকটি সপ্তাহের সাতদিনই খোলা থাকে তাই সংখ্যাটি আরও বেশি বলে মনে করেন তিনি।
আন্তুল বলেন, এখানে আমি এটা ভালোবাসি। আমি আমার কাজকে ভালোবাসি। আমি আগে যেখানে ছিলাম সেখানকার চেয়ে এখানে অনেক আনন্দে আছি। আমি এখানে থাকতে চাই। আমার পরিবার এখানে থাকতে চায়।
যদিও লাইসেন্স এবং কাজের অনুমতি আগেই পেয়েছেন তারপরও আন্তুল এটা জানেন যে, পারমানেন্ট রেসিডেন্সি পাওয়াটা হবে আরেকটি বড় যুদ্ধ, যা পয়েন্ট ব্যবস্থা এবং পেপারওয়ার্কের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
আন্তুলের পক্ষে কাজ করা আইনজীবদের একজন ইলেন সলোমন। তিনি অভিবাসন ব্যবস্থাকে ক্ষমার অযোগ্য বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, আন্তুলের মামলাটি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রণীত এই ব্যবস্থার অনমনীয়তা দেখিয়ে দিয়েছে।

