
উৎপাদনশীলতার অর্থ হচ্ছে প্রতিটি সেকেন্ডের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং স্ক্রিন কাজ ও পরিবারের মধ্যকার রেখাটিকে ঝাপসা করে দিচ্ছে। কিছু মানুষ ধীরে চলছেন এবং পুরোনো দিনের যোগাযোগ যন্ত্রের দিকে তাকিয়ে বিচ্ছিন্ন হচ্ছেন।
চিঠি লেখা ও টাইপরাইটার ক্লাব থেকে শুরু করে টিকটক কমিউনিটিগুলো ক্যালিগ্রাফির দক্ষতা সামনে আনছে এবং মোমের সিল পুরোনো দিনের লেখালেখির সরঞ্জামের পুনর্জাগরণ ঘটাচ্ছে।
৪২ বছর বয়সী মেলিসা ববিট একজন নিবেদিতপ্রাণ চিঠি লেখক এবং তার বাড়ি থেকে ক্লেয়ারমন্ট ও ক্যালিফোর্নিয়ার এক ডজনের মতো মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ৪০ জনের মতো তার কলমী বন্ধু রয়েছে। তিনি বলেন, আমার কলমের বন্ধুদের আমি বন্ধু মনে করি। ফোনে, কফি শপে অথবা অন্যদের বাড়িতে কথা বলা বন্ধুদের চেয়ে আমি তাদেরকে ভিন্ন কিছু মনে করি না। একজন ব্যক্তির ওপর মনোযোগ নিবদ্ধ করা এবং তাদের কথাগুলো পড়া এবং আপনার অন্তরের কথা ভাগ করে নেওয়া থেরাপি সেশনের মতো।
বহু দূরের কাউকে বার্তা পাঠানোর উপায় হিসেবে ব্যবহৃত কালি, কাগজ ও অন্যান্য সরঞ্জাম সারা বিশে^র মানুষকে একত্র করার কাজ অব্যাহত রেখেছে।
সবসময় সবকিছু পাওয়ার এই সমাজে চিঠি লেখার মতো কাজে মনোযোগ ও ধৈর্য্য লাগে। কলম হাতে তুলে নেওয়া, মোম দিয়ে খাম সিল করা এবং পাতার লেআউট করা নান্দনিকভাবে সুখের ফলাফল বয়ে আনতে পারে। একইসঙ্গে এটি ফিরে দেখার একটি পরিসরও সৃষ্টি করে দেয়।
শিকাগোর ২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী স্টেফানিয়া কন্টোপানোস বলেন, ফোন এবং কম্পিউটার দূরে সরিয়ে রাখা কঠিন। বিশেষ করে তার সব বন্ধুরা যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থাকেন। সেই সঙ্গে তার ক্লাস ও ব্যক্তিগত জীবনও আবর্তিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, একটা সময় ছিল যখন আমি বন্ধুদের সঙ্গে ছিলাম এবং ডিনার করতাম। পরে আমি বুঝতে পারি যে, আমরা সবাই এখন আমাদের ফোনের মধ্যে। ওই সময়গুলোতে তিনি তার ফোনটি রেখে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
কিকি ক্লাসেনের কাছে চিঠি লেখা এবং তা পাঠানো স্মৃতিকাতর বিষয়। অন্টারিওর সেন্ট ক্যাথারিন্সের ২৮ বছর বয়সী এই বাসিন্দা বলেন, এটা তাকে তার প্রয়াত মায়ের আরও কাছাকাছি নিয়ে যায়। তার মা ছিলেন কানাডিয়ান ইউনিয়ন অব পোস্টাল ওয়ার্কার্সের একজন সদস্য। মেইল ক্যারিয়ার এবং অন্যান্য পোস্টাল কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়ন এটি।

