
চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে শক্তিশালীভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে কানাডার অর্থনীতি প্রত্যাশাকেও ছাপিয়ে গেছে। শক্তিশালী বাণিজ্য ভারসাম্য শুল্কের কারণে সৃষ্ট সংকোচন থেকে অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে।
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা শুক্রবার বলেছে, ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে বার্ষিকভিত্তিতে কানাডার মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ। এই প্রবৃদ্ধি ব্যাংক অব কানাডা এবং অর্থনীতিবিদদের ওপর পরিচালিত জরিপের ফলে প্রাপ্ত পূর্বাভাসের চেয়ে দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।
কানাডিয়ান শুল্ক কানাডার অর্থনীতিকে চেপে ধরার কারণে দ্বিতীয় প্রান্তিকে জিডিপি ১ দশমিক ৮ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল। তৃতীয় প্রান্তিকে অর্থনীতি সেই সংকোচন থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এই প্রবৃদ্ধির পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে প্রান্তিকটিতে উন্নত বাণিজ্য ভারসাম্য। এমনটাই বলেছে স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা।
জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে রপ্তানি বেড়েছে দশমিক ২ শতাংশ। মার্কিন শুল্কের কারণে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকে রপ্তানি ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল। তৃতীয় প্রান্তিকে আমদানি হ্রাস পেয়েছে ২ দশমিক ২ শতাংশ, ২০২২ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের পর যা সর্বোচ্চ। এসবই জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
সরকারের মূলধনী ব্যয় বৃদ্ধিও তৃতীয় প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধিতে সাহায্য করেছে বলে জানিয়েছে স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা। বিশেষ করে অস্ত্র ব্যবস্থায় ব্যয় পূর্ববর্তী প্রান্তিকের তুলনায় ৮২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাড়ি পুনঃবিক্রয়ও চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা ভূমিকা রেখেছে, যা নির্মাণখাতের সংকোচনকে পুষিয়ে দিয়েছে।
কানাডার পরিসংখ্যান সংস্থাটি বলেছে, সেপ্টেম্বরে প্রকৃত জিডিপি দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এর প্রাথমিক প্রাক্কলনের চেয়ে বেশি। আগস্টে যেখানে জিডিপি দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল।
সেপ্টেম্বরের প্রবৃদ্ধিতে নেতৃত্ব দিয়েছে উৎপাদন শিল্প। পাশাপাশি ভ্রমণ কর্মকা- স্বাভাবিক হওয়ায় পরিবহন ও ওয়্যারহাউজিং খাতও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। গত মাসে এয়ার কানাডার ফ্লাইট অ্যাটেন্ড্যান্টদের ধর্মঘটের কারণে ভ্রমণ কর্মকা-ে স্থবিরতা নেমে আসে।
ব্যাংক অব কানাডার সুদের হার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সর্বশেষ নির্ধারিত দিনক্ষণের আগে তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপির এই ফলাফল এল। আগামী ১০ ডিসেম্বর সুদের হার সংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা রয়েছে ব্যাংক অব কানাডার।

