
এবারের ছুটির মৌসুমে সন্তানদের হাতে প্রতিশ্রুত উপহারটি তুলে দিতে সেগুলো খুঁজছেন বাবা-মায়েরা। তবে এ ব্যাপারে বাবা-মাকে এআইচালিত খেলনার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন কানাডিয়ান চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ও ফিজিওলজি বিশেষজ্ঞরা। কারণ, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা থেকে শুরু করে নিরাপত্তা এবং শিশুর সৃজনশীলতা ও উন্নয়নে হস্তক্ষেপ করতে পারে এগুলো।
সিএইচইও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী এবং অটোয়ার শিশু মনোবিদ ড. নিকোল রেসিন বলেন, প্রারম্ভিক শৈশব এমন একটা সময় যখন উন্নয়নের পর্যায়ে থাকা মস্তিক্য অনেকটা স্পঞ্জের মতো। এটা সবকিছু গ্রহণ করে এবং খুব নমনীয়। কী ধরনের বিষয় আমি শিশুদেরকে দিতে চাই তা নিয়ে আমি ভেবেছি। সত্যি কথা বলতে এটা এআই অ্যালগোরিদম নয়।
রেসিনের নিজেরও দুটি শিশু রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ফেয়ারপ্লে গত সপ্তাহে বাবা-মায়েদের জন্য একটি অ্যাডভাইজরি প্রকাশ করার পর তার এ মন্তব্য সামনে এল। অ্যাডভাইজরির উদ্দেশ্য প্রযুক্তির সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে শিশুদের রক্ষা করা। ডজনখানেক বিশেষজ্ঞ অ্যাডভাইজরিটি গ্রহণ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন চাইল্ড অ্যাডভোকেসি গ্রুপ, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও মনোবিদ।
অ্যাডভাইজরিতে এআইচালিত খেলনা বলতে চ্যাটবট এমবেডেড পুশি, ডল, অ্যাশন ফিগার অথবা শিশুদের রোবোট এবং পরীক্ষিত বন্ধুর মতো যোগাযোগকারী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিকে বোঝানো হয়েছে। ফেয়ারপ্লের ইয়াং চিলড্রেন থ্রাইভ অফলাইন প্রোগ্রামের পরিচালক রাচেল ফ্রাঞ্জ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এআই উপাদানগুলোকে এমন ফুলিফে ফাপিয়ে বিজ্ঞাপিত করা হয় যেন বাবা-মায়েরা সহজেই তা শনাক্ত করতে পারেন। খেলনাটি ওয়াইফাইয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করা দরকার কিনা সেদিকেও লক্ষ্য রাখা উচিত।
খেলনাগুলো দারুণ এবং শিক্ষামূলক ও যোগাযোগ সঙ্গী হিসেবে বিপণন করা হয়ে থাকে, যা শিশুদের সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করে। কিন্তু শিশু উন্নয়নে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সত্যটা ঠিক এর উল্টো। এগুলো শিশুর কল্পনাকে স্তব্দ করে দিতে পারে। কারণ, সাধারণ খেলনার সঙ্গে শিশুরা আলাপের দুটো দিকই করতে পারে।
অধিকন্তু, এআই চ্যাটবট ব্যবহারকারীর কথায় প্রায় সময়ই সম্মতি দিয়ে থাকে, সংঘাত মোকাবিলার অভিজ্ঞতা ও সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা থেকে বিরত রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুরা মতবিরোধ থাকলে কীভাবে তা মোকাবিলা করবে? আমি এভাবে খেলতে চাই। না, আমি এটা খেলতে চাই। এটাই শৈশবের অপরিহার্য ও মৌলিক ক্রিয়া। এমনটাই বলেন টরন্টোর সেন্টার ফর অ্যাডিকশন অ্যান্ড মেন্টাল হেলথের সাইকিয়াট্রিস্ট ড. ড্যানিয়েলা লোবো।

