
‘সুন্দর অভিজ্ঞতা’। বাড়ির বাইরে গেলে কথাটি খুব বেশি ব্যবহার হয় না। তবে ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার গবেষকরা বলছেন, মাশরুম-চালিত পানিবিহীন টয়লেটের ক্ষেত্রে শব্দগুচ্ছটি ভালোমতোই যায়।
এটা বিশ্বের প্রথম এ ধরনের টয়লেট, যা মাশরুমের রুট নেটওয়ার্জ মাইসেলিয়া ব্যবহার করে মানব বর্জ্যকে কম্পোস্টে রূপান্তরিত করবে। মাইকো টয়লেট ছয় সপ্তাহের পরীক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনে ফেলা হয়েছে।
টয়লেটটি তরলকে কঠিক বর্জ্য থেকে পৃথক করে। এরপর কঠিন বর্জ্য চলে যায় মাইসেলিয়াম কম্পার্টমেন্টে, যেখানে দুর্গন্ধের জন্য দায়ী ৯০ শতাংশ যৌগ শোষিত হয় বলে পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড ইমিউনোলজি বিভাগের অধ্যাপক স্টিভেন হালাম বলেন, গাছের মূলে যে নির্দিষ্ট ফাঞ্জি রয়েছে সেটা তারা বহু আগে থেকেই জানেন। এই ফাঞ্জি গাছকে পুষ্টি শোষণ ও প্যাথোজেন থেকে তাদেরকে রক্ষায় সহায়তা করে। আমরা জানতে পেরেছি যে, শ্বাসযোগ্য মাইসেলিয়াম লাইনার দুর্গন্ধ কমাতে ভূমিকা রাখে। সেই সঙ্গে উপজাত হিসেবে যে তরল তাও অপসারণে সহায়তা করে।
মডিউলার টয়লেটটি বছরে মাত্র চারবার মেরামত করলেই চলবে। কার্যক্রমে এলে এটি বছরে ৬০০ লিটারের মতো মাটি উৎপাদন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বছরে তরল সার উৎপাদন করবে দুই হাজার লিটার।
প্রকল্পটির প্রধান এবং ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার স্কুল অব আর্কিটেকচারের সহযোগী অধ্যাপক জোসেফ ডাহমেন বলেন,
গন্ধের কারণে টয়লেটকে সারে রূপান্তরের বিষয়টি মানুষের মাথায় আসে না। তাদের টয়লেটের জন্য তারা সেইসব সামগ্রী তালাশ করেছেন যেগুলো দুর্গন্ধ কমিয়ে ক্যাম্পাসকে টেকসইভাবে সবুজ রাখবে।
নিম্ন আয়ের দেশগুলোও তাদের স্যানিটেশন চাহিদা পূরণে এ ধরনের টয়লেট ব্যবহার করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন ডাহমেন।

