
কানাডা পোস্ট কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়ন বৃহস্পতিবার কানাডাজুড়ে ধর্মঘট শুরু করেছে। সরকারের ঘোষিত পরিবর্তনের প্রতিবাদে এই ধর্মঘট শুরু করেছে তারা। সরকার তাদের ঘোষণায় মেইল ডেলিভারি কমানোর পাশাপাশি কিছু পোস্ট অফিস বন্ধের কথা বলেছে।
কানাডিয়ান ইউনিয়ন অব পোস্টাল ওয়ার্কার্সের (সিইউপিডব্লিউ) নেগোশিয়েটর জিম গ্যালান্ট গ্লোবাল নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেছেন যে, চারটি আটলান্টিক প্রদেশ এরই মধ্যে ধর্মঘটে গেছে এবং অন্য প্রদেশগুলোও একই পথে রয়েছে। আগামীকালের মধ্যে আমি সবাইকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানাব। আমরা ধর্মঘটে যেতে চাইনি। কিন্তু মন্ত্রী আমাদের বাধ্য করেছেন। কানাডা পোস্টের উচিত আমাদের একটি প্রস্তাব দেওয়া।
কানাডা পোস্ট দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী জোয়েল লাইটবাউন্ড বৃহস্পতিবার সকালের দিকে এক ঘোষণায় বলেন, ব্যক্তির ঠিকানায় তার দোরগোড়ায় মেইল ডেলিভারির পরিবর্তে কমিউনিটি মেইেলবক্সে রূপান্তরের ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেবে সরকার।
অটোয়ার গ্রামীণ পোস্ট অফিসগুলোর ওপর থেকে স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করা হবে, যা কোম্পানিকে জরুরি নয় এমন বেশ কিছু পোস্ট অফিস বন্ধ করে দেওয়ার অনুমতি দেবে। পাশাপাশি অজরুরি মেইল আকাশপথে পাঠানো বন্ধ করে ডেলিভারি মান উন্নত করা হবে।
পোস্টাল ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে বলেছে, এই পরিবর্তনের ঘোষণায় আমরা ক্ষুব্ধ এবং আতঙ্কিত। এটা তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত এবং এতে জনগণ এবং কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আমাদের পোস্টাল সেবা ও কর্মীদের ওপর সরকারের এই আক্রমণের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে সিইউপিডব্লিউ-এর সব সদস্য দেশব্যাপী ধর্মঘটে গেছেন।
কর্মসংস্থানমন্ত্রী প্যাটি হাইডু উভয় পক্ষকে যত দ্রুত সম্ভব একটি দর-কষাকষি চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কানাডা
পোস্টের যে তাদের নিজেদের ব্যবসায় পরিবর্তন আনা অত্যাবশ্যকীয় সেটিও তুলে ধরেন তিনি।
প্যাটি হাইডুর কার্যালয় থেকে ইস্যু করা এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, কানাডা পোস্ট ও সিইউপিডব্লিউর একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানে আসা দরকার, যাতে করে কর্পোরেশনের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হয় এবং কর্মীরা এটিকে চালিয়ে নেওয়া অব্যাহত রাখেন। দর-কষাকষি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে ফেডারেল মধ্যস্থতাকারী প্রস্তুত রয়েছেন এবং একটি ন্যায্য সমাধানে পৌঁছাতে উভয় পক্ষের প্রতি আমি আহ্বান জানাচ্ছি।

