
ক্যালগেরি স্ট্যাম্পিড কেবলমাত্র রোডিও নয়। এটা পশ্চিমা ফ্যাশনের একটি রানওয়ে, যেখান দিয়ে প্রতি বছর রাজনীতিবিদরা সগৌরবে হেঁটে যান।
সব স্তরের রাজনীতিকরা বার্ষিক এই প্রদর্শনী ও রোডিওতে যোগ দেন। পশ্চিমা সবকিছুর উদযাপন হিসেবে বিবেচনা করা হয় একে। কাউবয় হ্যাট, বেল্ট বাকলস, ডেনিম ও বুট নেতারা প্রদর্শন করেন। অর্থাৎ, রাজনীতি ও পোশাক এখানে হাত ধরাধরি করে চলে। এমনটাই বলেন ফ্যাশন বিশেষজ্ঞরা।
কানাডিয়ান ডিজাইনার পল হার্ডি বলেন, স্ট্যাম্পিড আসলে পারফরমেন্স সম্পর্কিত। এটা কেবলমাত্র মার্জিত পোশাক নয়। এটা তার চেয়েও বেশি কিছু। আত্ম-মর্যাদাশীল প্রত্যেক আলবার্টাবাসীর পোশাকে ছোট একটি অংশ পশ্চিমা এবং লোকজন সেগুলো পরিধান করেন। এটা এখানকার সংস্কৃতিরই অংশ। এটা একটা সামাজিক প্রবণতা, যা আমাকে এই দিনে বিস্মিত করে।
স্ট্যাম্পিডের ওয়েবসাইটে পশ্চিমা পোশাককে উৎসাহিত করা হয়। এবং রাজনীতিবিদরা এই পোশাকবিধি অনুসরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, ফেডারেল বিরোধীদলীয় নেতা পিয়েরে পয়লিয়েভর, অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড এবং অবশ্যই আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েলে স্মিথ সবাইকেই এ বছরের অনুষ্ঠানে পশ্চিমা পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে।
ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টার অধ্যাপক ও পোশাক সংক্রান্ত ইতিহাসবিদ অ্যানি বিসোনেট বলেন, তাদের পোশাক-আশাকই বলে দেয় যে, রাজনীতি নীতির চেয়ে বেশি কিছু। রাজনীতিবিদ এবং অন্যরা এটা ভালো করেই বোঝেন যে, তারা যা পরিধান করেন তার মাধ্যমে তারা তাদের শ্রোতাদের জন্য একটি গল্প নির্মাণ করছেন। সুতরাং, একে চরিত্র গঠনও বলা যায়।
হিসেবে পিয়েরে পয়লিয়েভরের কথা বলা যায়। গত সপ্তাহে লিবারেল সরকারের সমালোচনা করে বক্তৃতা দেওয়ার সময় তিনি সাদা এম্ব্রয়ডারি করা জামার সঙ্গে মিলিয়ে সাদা কাউবয় হ্যাট পরেছিলেন। বক্তৃতার শেষে এসে কনজার্ভেটিভ নেতা বলেন, প্রগতিশীল সংস্কৃতি নয়, আমরা যুদ্ধ সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চাই।

