
এরকম ঘটনাও আগে অবশ্য দেখা যায়নি। টরন্টো সিটি কাউন্সিল একটি ধারণা এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন । তাদেও এই উদ্দেশ্যটা খুবই অন্যরকম। তারা চাইছেন আকাশচুম্বি খাবারের দাম নিয়ন্ত্রণ। আর উদ্যোগটি হচ্ছে সিটি পরিচালিত অলাভজনক গ্রোসারি স্টোর।
কিন্তু সমালোচকদের অনেকেই বিশশ্বাস করেন যে, গ্রোসারি স্টোর চেইনের বিরুদ্ধে গিয়ে এই কাজে পা রাখার মাধ্যমে টরন্টো সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ করতে যাচ্ছে। বিচেস ইস্টইয়র্কের বাসিন্দা জো রাইবেক বলেন, তাদের অভিজ্ঞতা বলতে তেমন কিছু নেই এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে সম্পর্কও সামান্য। এটা এমন এক শিল্প যেখানে মুনাফার মার্জিনটা অনেক কম। তারা কীবাবে এটা রান করবেন সেটা আমার বোধগম্য নয়।
আপনি প্রতিটি ডলার যখন ক্যাশবাক্সের মাধ্যমে রাখেন তখন চার সেন্টের মতো মুনাফা হিসেবে পায় প্রধান প্রধান রিটেইলারদের প্রত্যেকে। এটাই চলছে। মুনাফা মার্জিনটা খুবই কম। আপনাদের নির্ভর করতে হয় বিক্রির পরিমাণের ওপর।
তিনি বলেন, প্রশ্ন হচ্ছে সিটি কর্তৃপক্ষ কি প্রতিষ্ঠিত গ্রোসারদের প্রতিযোগিতা করতে পারবে? তারা কি লাভজনক খাতের ক্রয়ক্ষমতা ও দক্ষতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে? তারপর মুনাফার উদ্দেশ্য ছাড়া কম মূল্যে খাবার সরবরাহ করতে সক্ষম হবে? তারা যদি কম মূল্যে খাবার সরবরাহ করতে পারে তাহলে আপনি যাবেন। কিন্তু নিশ্চিতভাবেই এখানে কিছু সংশয় রয়েছে।
স্থানীয় ফুড ব্যাংকের দায়িত্বশীলরাও সংশয় প্রকাশ করেছেন। রিমা বারনিস বলেন, আপনি যখন কোনো গ্রোসারি স্টোরে যান এবং কোনো পণ্য কেনেন তখন ওই পণ্যের মূল্যের ৭০ শতাংশ হচ্ছে উৎপাদন খরচ। এর ওপর আপনাকে শ্রমের ব্যয় হিসেবে ১৫ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে। এর সঙ্গে রয়েছে ওভারহেড খরচ, যা ৫ থেকে ১০ শতাংশ। সুতরাং, মুনাফার হারটা খুবই কম এবং সরকারকে এই বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।
টরন্টো সিটির গ্রোসারি স্টোর প্রকল্প কতটুকু সাফল্যের মুখ দেখবে সেটা বোঝা যাবে আগামীতে। তবে অনেকেই মনে করছেন যদি তারা সাশ্রয়ী মূল্যে আসলেই পণ্য সরবরাহ করতে পারেন তাহলে নাগরিকদের অনেক দুর্দশা লাঘব হবে।
হেলাল চৌধুরী : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

