Latest Posts

বন্ধ হচ্ছে তত্ত্বাবধানে মাদক গ্রহণ কেন্দ্র: নতুন নীতিতে বিতর্ক ও উদ্বেগ

- Advertisement -
সরকারের এই পদক্ষেপকে ঘিরে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, অধিকারকর্মী এবং বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে

কানাডার অন্টারিও প্রদেশে মাদকাসক্তি মোকাবিলায় নীতিগত বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে প্রাদেশিক সরকার। বহু বছর ধরে পরিচালিত তত্ত্বাবধানে মাদক গ্রহণ কেন্দ্রগুলোর জন্য সরকারি অর্থায়ন বন্ধের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রদেশজুড়ে অবশিষ্ট কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রমও শিগগির বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপকে ঘিরে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, অধিকারকর্মী এবং বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সরকারি সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়ের পর এসব কেন্দ্র আর কোনো প্রাদেশিক অর্থায়ন পাবে না। এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়ছে বিশেষ করে টরন্টোর শেষ দুটি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত কেন্দ্র, পাশাপাশি অটোয়া, লন্ডন, কিংস্টন এবং পিটারবরো শহরের কেন্দ্রগুলোও। ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, নির্দিষ্ট সময়ের পর তারা আর সরকারি সহায়তা পাবে না এবং নিজেদের উদ্যোগেই কার্যক্রম চালাতে হবে, যা অনেক ক্ষেত্রেই বাস্তবসম্মত নয়।

- Advertisement -

প্রাদেশিক সরকারের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, মাদক নির্ভরতা মোকাবিলায় বর্তমান কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার ওপর। স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, এই নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে মাদকাসক্তদের ধীরে ধীরে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে কমিউনিটির সার্বিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা যাবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় পুনর্বাসনকেন্দ্র স্থাপন ও সম্প্রসারণে বিনিয়োগ বাড়ানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

তবে এই সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেক কমিউনিটি সংগঠন অভিযোগ করেছে, তারা শেষ মুহূর্তে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছে এবং এখনো পরিষ্কার দিকনির্দেশনা পায়নি। এর ফলে এসব সেবার ওপর নির্ভরশীল মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

কমিউনিটি সংগঠন “এ্যারো”-এর প্রধান দিমা নেফারদিদ বলেন, “অন্টারিওর বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছে। এই কেন্দ্রগুলো শুধু মাদক গ্রহণের জায়গা নয়, বরং ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।” তার মতে, হঠাৎ করে এই সেবাগুলো বন্ধ করে দিলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী।

একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাউথ কেয়ার হোমসের প্রধান নির্বাহী রোনাল্ড ফার্গুসন। তিনি বলেন, “এই কেন্দ্রগুলো বহু বছর ধরে নিরাপদ পরিবেশে সেবা দিয়ে আসছে। এগুলো বন্ধ হয়ে গেলে অতিরিক্ত মাত্রায় মাদক গ্রহণজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাশাপাশি অনেক মানুষ সম্পূর্ণভাবে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বাইরে চলে যেতে পারে।”

অন্যদিকে সরকার বলছে, আগের ব্যবস্থায় কিছু এলাকায় জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব কেন্দ্রের আশেপাশে অপরাধ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা বেড়েছিল। তাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য নীতিগত পরিবর্তন জরুরি হয়ে পড়েছে। সরকারের মতে, পুনর্বাসন ও চিকিৎসাকেন্দ্রিক পদ্ধতি মাদকাসক্তি সমস্যার টেকসই সমাধান দিতে সক্ষম।

উল্লেখ্য, এর আগে সরকার স্কুল ও শিশুসেবা কেন্দ্রের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে এ ধরনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত কেন্দ্র স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় ধাপে ধাপে কয়েকটি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে বা পুনর্বাসনভিত্তিক কাঠামোয় রূপান্তরিত হয়েছে।

কমিউনিটি সেটেলমেন্ট সার্ভিসের কর্মকর্তা রাকিক হুমায়রা বলেন, এই পরিবর্তন বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলে দেবে।” স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, নতুন নীতি কার্যকর হতে সময় লাগবে, আর সেই সময়ের মধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, অন্টারিও সরকারের এই সিদ্ধান্ত মাদকাসক্তি মোকাবিলার পদ্ধতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই পরিবর্তন জনস্বাস্থ্য, মানবাধিকার এবং কমিউনিটির নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য কতটা বজায় রাখতে পারবে তা নিয়ে বিতর্ক এখনো অব্যাহত রয়েছে।

Helal Chowdhury : Local Journalism Initiative Reporter

- Advertisement -

Latest Posts

Don't Miss

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.