Latest Posts

‘কানাডা মিনেসোটা নয়’

- Advertisement -
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানে দুই বাসিন্দার মৃত্যুর ঘটনায় কোনো মন্তব্য বা রায় দিতে চান না কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী গ্যারি আনান্দাসাঙ্গারি

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানে দুই বাসিন্দার মৃত্যুর ঘটনায় কোনো মন্তব্য বা রায় দিতে চান না কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী গ্যারি আনান্দাসাঙ্গারি। তবে অভিবাসন নীতি ও কাউকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে কানাডা যে কঠোরভাবে আইনের শাসন, মানবাধিকার ও সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সে বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলে ধরতে তিনি এক মুহূর্তও দেরি করেননি।

এ সপ্তাহের শুরুতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনান্দাসাঙ্গারি বলেন, “আমি যেটা বলতে চাইছি তা হলো কানাডা মিনেসোটা নয়। অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া নিয়ে মন্তব্য করা আমার দায়িত্ব নয়। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ যেন চার্টারের মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং ডিউ প্রসেস বা সঠিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।”

- Advertisement -

জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি-এর কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী জানান, মানবিক বিবেচনা বজায় রেখেই কানাডা গত বছর ২২ হাজারেরও বেশি মানুষকে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। তাঁর দাবি, এসব প্রত্যাবাসনের প্রতিটি ধাপে আইনি প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে।

মিনেসোটার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ইউ.এস. ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট এবং কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন জানুয়ারি মাসে একটি ব্যাপকভিত্তিক অভিযান চালায়। ওই অভিযানের পরপরই ব্যাপক বিক্ষোভ ও জনক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে মিনিয়াপোলিসের দুই বাসিন্দা রেনি গুড ও অ্যালেক্স প্রেটি গুলিতে নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ জানুয়ারি নিজের গাড়িতে থাকা অবস্থায় আইসিই-এর এক কর্মকর্তার গুলিতে নিহত হন রেনি গুড। পরে ২৪ জানুয়ারি কাস্টমস ও বর্ডার প্রোটেকশন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভ চলাকালে গুলিতে প্রাণ হারান অ্যালেক্স প্রেটি। এসব ঘটনার পর মার্কিন ফেডারেল বাহিনীর কৌশল নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

এই প্রেক্ষাপটে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় কমে গেছে এমন আলোচনা জোরালো হলেও তা নাকচ করে দেন আনান্দাসাঙ্গারি। তাঁর ভাষায়, “এটা সত্য যে, দীর্ঘদিনের ইতিহাসে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র এখন একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে দুই দেশের সংস্থা ও কর্মকর্তাদের মধ্যে সহযোগিতা বন্ধ হয়ে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, বাস্তবে পারস্পরিক সহযোগিতা ও গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি গত বছর অটোয়ায় অনুষ্ঠিত জি৭ প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে মাদকসম্রাট রায়ান ওয়েডিংয়ের বিরুদ্ধে পরিচালিত মামলায় রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ-এর সম্পৃক্ততাকেও তিনি দুই দেশের চলমান সহযোগিতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন।

সব মিলিয়ে, মিনেসোটার বিতর্কিত অভিযানের বিষয়ে সরাসরি অবস্থান না নিলেও, অভিবাসন ও নিরাপত্তা প্রশ্নে কানাডার নীতিগত অবস্থান যে মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার ওপরই দাঁড়িয়ে আছে সে বার্তাই জোরালোভাবে দিয়েছেন কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী।

- Advertisement -

Latest Posts

Don't Miss

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.