
কানাডাজুড়ে জরুরি কক্ষগুলো যখন কর্মী সংকট ও দীর্ঘ অপেক্ষমাণ সময়ের চাপে রয়েছে, তখন আস্থা, প্রাপ্যতা এবং ন্যায্যতর বিষয়টি নাগরিক বিতর্কের কেন্দ্রে স্থান করে নিয়েছে। অনেক কৃষ্ণাঙ্গ চিকিৎসকের জন্য অবশ্য এসব উদ্বেগ নতুন নয়।
বহু আগে স্বাস্থ্য খাতে বর্ণের বিষয়টি যখন অতটা আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠেনি তখন কানাডায় কৃষ্ণাঙ্গ চিকিৎসকরা প্র্যাক্টিস করতেন এক ধরনের বোঝাপড়া নিয়ে। তা হলো স্বাস্থ্য কেলমাত্র জীববিজ্ঞানের বিষয় নয়, এটা কেমন হবে অবকাঠামো, নীতি এব ক্ষমতা দ্বারা তা নির্ধারিত হয়। সরকার ও ইনস্টিটিউশনগুলোর কম গুরুত্বে থাকা কমিউনিটিগুলোতে তারা বেশিরভাগ সময় কাজ করলেও তাদের কাজ ছড়িয়ে পড়েছিল ক্লিনিকের দেওয়ালের বাইরেও।
প্রাক-কনফেডারেশন ওয়েস্টে গ্রামীণ জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ থেকে শুরু করে বর্ণবাদের স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে সমসাময়িক গবেষণাÑসব ক্ষেত্রেই এক শতকেরও বেশি সময় ধরে কানাডিয়ান স্বাস্থ্যসেবাকে আকৃতি দিয়েছেন কৃষ্ণাঙ্গ চিকিৎসকরা। তারপরও তাদের অনেকের অবদান জনগণের স্মৃতিতে নেই। যদিও ন্যায্যতা, প্রাপ্যতা এবং প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আলোচনা অব্যাহতভাবে বিবর্তিত হচ্ছে।
কৃষ্ণাঙ্গ ইতিহাসের এই মাসে তাদের গল্পগুলো আজকের বিতর্কে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের রসদ। শুরুর দিককার যেসব উদাহরণ রয়েছে তার মধ্যে ডা. আলফ্রেড শিটিজস শাদ অন্যতম। তিনি ছিলেন এমন একজন চিকিৎসক যিনি কানাডার অগ্রদূত যুগে ওষুধ, কৃষি, রাজনীতি ও পাবলিক অ্যাডভোকেসির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছিলেন।
অন্টারিওর কেন্ট কাউন্টির র্যালেই টাউনশিপে ১৮৭০ সালে জন্ম নেওয়া শাদ এসেছিলেন একটি অভিজাত কৃষ্ণাঙ্গ পরিবার থেকে। পরিবারটি অ্যাবোলিশনিস্ট এবং সমান অধিকার নিয়ে আন্দোলনের জন্য পরিচিত। তার চাচী মেরি অ্যান শাদ ক্যারি ছিলেন একজন প্রখ্যাত অধিকারকর্মী এবং তিনিই উত্তর আমেরিকায় প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন। প্রভিন্সিয়াল ফ্রিম্যান অ্যাবোলিশনিজম নিয়ে সোচ্চার ছিল। পশ্চিমে কৃষ্ণাঙ্গ বসতিকে উৎসাহিত করত এবং কৃষ্ণাঙ্গ পাঠকদের জন্য সাধারণ সাহিত্য প্রকাশ করত।
১৮৯৬ সালে শাদ শিক্ষকতার জন্য কিনিস্টিনোতে আসেন। এরপর চিকিৎসা বিজ্ঞানে ডিগ্রি সম্পন্ন করার জন্য ১৮৯৮ সালে তিনি ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোতে ফিরে আসেন। গ্র্যাজুয়েশনের পর তিনি কিনিস্টিনো ও মেলফোর্টে মেডিকেল প্র্যাক্টিস শুরু করেন। বসতি গড়া কৃষ্ণাঙ্গ ও সাস্কেচুয়ানের ক্যারোট রিভার পার্ক বেল্টের আদিবাসীদের সেবা দেন তিনি।
শাদ ১৯১৫ সালে সালে উইনিপেগে প্রয়াত হন এবং সাস্কেচুয়ানের মেলফোর্টে তাকে সমাহিত করা হয়। সেখানে একটি কালো পাথরে চিকিৎসা, রাজনীতি এবং জনজীবনে তার অবদানের কথা খোদাই করা আছে।
ডা. জুন ম্যারিয়ন জেমস ছিলেন ইউনিভার্সিটি ম্যানিটোবার ফ্যাকাল্টি অব মেডিসিনে ভর্তি হওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী। ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স থেকে ১৯৬৭ সালে তিনি গ্র্যাজুয়েট হন এবং শিশুরোগ, অ্যালার্জি, অ্যাজমা এবং ইমিউনোলজিতে বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি নেন। পরবর্তীতে এই ক্ষেত্রগুলোর নেতা হয়ে ওঠেন।
তার প্রভাব পরবর্তীতে রোগী দেখার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। ম্যানিটোবার কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সের তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্য দিয়ে প্রদেশের মেডিকেল নিয়ন্ত্রণ সংস্থার কেন্দ্রে স্থান হয় একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারীর। যেখানে নীতি নির্ধারণের দায়িত্ব থেকে জাতিগত চিকিৎসকদের দূরে রাখা হতো।
পেশাগত অর্জনের পাশাপাশি কমিউনিটি অর্গানাইজেশনের সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন জেমস। ম্যানিটোবার কংগ্রেস অব ব্ল্যাক উইমেন এর মধ্যে অন্যতম। তার অবদানের জন্য তিনি কুইন এলিজাবেথ দ্বিতীয় গোল্ডের জুবিলি পদকে ভূষিত হন।
পারিবারিক চিকিৎসক হোয়াইট ব্ল্যাক হেথকেয়ার নেটওয়ার্কের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। নেটওয়ার্কটি কানাডাজুড়ে কৃষ্ণাঙ্গ চিকিৎসক, নার্স এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের সহায়তা দিয়ে থাকে। হোয়াইট বলেন, এটা দারুণ ব্যাপার যে, আমাদের ব্ল্যাক ফিজিশিয়ান্স অব কানাডা, ব্ল্যাক ফিজিশিয়ান্স অব অন্টারিও এবং ব্ল্যাক হেলথকেয়ার পওফেশনাল নেটওয়ার্কের মতো সংগঠন রয়েছে। এটা শুধু প্রতীকি নয়। এর ক্লিনিকাল ফলাফলও রয়েছে।
বর্ণবাদ কীভাবে স্বাস্থ্য ও সামাজিক ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে তা পরীক্ষায় দশকের পর দশক ব্যয় করেছেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগেরির ফ্যাকাল্টি অব সোশ্যাল ওয়ার্কের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডা. ডেভিড এস্টে। ১৯৯২ সালে শিক্ষকতা পেশায় আসার আগে তিনি মেডিকেল সামাজিক কর্মী এবং গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন। তার ক্যারিয়ারে তিনি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, গ্র্যাজুয়েট এবং ডক্টোরাল পর্যায়ে পড়িয়েছেন। বর্ণবাদ, সহিংসতা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং ফ্যামিলি ডাইনামিক্স সংক্রান্ত একাধিক জাতীয় গবেষণায় তিনি অংশ নিয়েছেন।

