
২০২৪ সালে কানাডায় মৃত্যুর প্রধান দুই কারণ ছিল নিউমোনিয়া এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার নতুন এক প্রতিবেদনে এমনটাই উঠে এসেছে।
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, মৃত্যুর শীর্ষ দশ কারণের মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের অসুস্থতা রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই কারণে কানাডায় মৃত্যু ২০ শতাংশ বেড়েছে। শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের ৫২ শতাংশের বেশি ৮৫ বছর ও তার বেশি বয়সী।
কানাডায় মৃত্যুর প্রধান কারণ ক্যানসার। সব মৃত্যুর এক-চতুর্থাংশের জন্য দায়ী ক্যানসার। সব প্রদেশ ও অঞ্চল এবং নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যেই মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে ক্যানসার। ১৯৯০ এর দশক থেকেই ক্যানসার কানাডায় মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে বিদ্যমান রয়েছে। এর আগে হৃদরোগ ছিল কানাডায় মৃত্যুর প্রধানতম কারণ। শীর্ষ পাঁচ কারণে মধ্যে আরও রয়েছে দুর্ঘটনা, স্ট্রোক এবং দীর্ঘমেয়াদী লোয়ার রেসপিরেটরি ডিজিজ।
ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়ার পর কানাডায় মৃত্যুরশীষ দশ কারণের মধ্যে রয়েছে যথাক্রমে ডায়াবেটিস, আলঝেইমার, কোভিড-১৯ এবং লিভারের রোগ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে প্রায় ২৮ হাজার মানুষ মারা গেছেন ডিমেনশিয়ার কারণে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। ২০০০ সালের পর থেকে ডিমেনশিয়ার কারণে মৃত্যু ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। তবে ২০২০ সাল এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। ওই সময় কোভিড-১৯ মহামারি শুরু হয়। ডিমেনশিয়া মৃত্যুর কারণগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত না হলেও ক্যানসার ও হৃদরোগের পরেই এর অবস্থান।
ডিমেনশিয়ার মারা যাওয়া কানাডিয়ানদের ৭০ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ৮৫ বছর বা তার বেশি। এ ছাড়া ২০২৪ সালে ডিমেনশিয়ায় মারা যাওয়া কানাডিয়ানদের মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ছিল নারী।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল কিছুটা বেড়ে ৮১ দশমিক ৬৮ বছরে দাঁড়িয়েছে, যা ২০১৯ সালে মহামারি পূর্ববর্তী সময়ের সমতুল্য। তবে প্রত্যাশিত আয়ু বেশি বেড়েছে পুরুষদের ৮০ দশমিক শূন্য ৩ বছর। তবে এখনো নারীরা পুরুষের চেয়ে বেশি বাঁচছেন। তাদের প্রত্যাশিত গড় আয়ুষ্কাল ৮৪ দশমিক ২৯ বছর। প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল বেশি বেড়েছে সাস্কেচয়িান, আলবার্টা এবং ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার মতো পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে।

