
অন্টারিওর এক বিচারকের বিরুদ্ধে বিচারিক অসদাচরণের প্রমাণ পেয়েছে একটি শৃঙ্খলা প্যানেল। তিন বছর আগে ওই বিচারকের বিরুদ্ধে এক নারীকে যৌন ও শারীরিক নিপীড়নের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর এই অসদাচরণে অভিযুক্ত হয়েছেন তিনি।
প্রদেশের বিচারকদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে থাকে অন্টারিও জুডিশিয়াল কাউন্সিল। তারা বলেছে, প্যানেল সর্বসম্মতিক্রমে এই মত দিয়েছে যে, অন্টারিও কোর্ট অব জাস্টিস পল কুরির বিরুদ্ধে ওঠা ছয়টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটিই সত্য হওয়ার ৫০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। এর অর্থ হলো এগুলো না ঘটার সম্ভাবনা তেমন ছিল না।
প্যানেল তাদের সিদ্ধান্তের সংক্ষিপ্তসারে বলেছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি ও এপ্রিলের নিপীড়নের ব্যাপারে ওই নারীর বয়ান এবং তার পরবর্তী ঘটনা ছিল যৌক্তিক এবং রেকর্ডের অন্যান্য প্রমাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কুরির প্রমাণ এক সময় ছিল অভ্যন্তরীণভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সমসাময়িক প্রমাণ একে খাটো করেছিল।
প্যানেল আরও প্রমাণ পেয়েছে যে, ওই নারীকে কাউন্সিলে অংশগ্রহণে নিবৃত করার চেষ্টার মাধ্যমেও কুরি অসদাচরণে সম্পৃক্ত হন। এ ছাড়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পাঁচদিন পরও পুলিশের কাছে আত্মসমর্পন না করার মাধ্যমেও তিনি অসদাচরণ করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি নিয়মিত মদ্যপান করতেন এবং ওই অবস্থায় গাড়ি চালাতেন।
যদিও বিচারক যে ওই নারীকে পুলিশের কাছে সাক্ষ্য না দেওয়ার জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন তার স্বপক্ষে প্রমাণ যথেষ্ট ছিল না।
গত আগস্টে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কুরি সেন্ট্রাল ওয়েস্ট রিজিয়নের জন্য রিজিয়নাল জ্যেষ্ঠ বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে ব্র্যাম্পটন এবং সেন্ট ক্যাথারিন্স। প্রথমে ফৌজদারি অভিযোগের মুখে পড়ার পর অন্টারিও কোর্ট অব জাস্টিসের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি কাউন্সিলে তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দাখিল করেন।
প্রসিকিউটররা দোষী সাব্যস্ত করার মতো যৌক্তি কোনো সুযোগ না দেখতে পাওয়ার পর ২০২৩ সালের জুনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বাতিল করা হয়। কোনো ফৌজদারি মামলায় কাউকে দোষী সাব্যস্তকরতে হলে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে হয়।
কাউন্সিল এরপর অভিযোগ তদন্ত করে এবং একটি রিভিউ প্যানেল শুনানির আদেশ দেয়। নভেম্বরের বেশ কয়েকদিন ধরে ওই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

