
টরন্টোর হাসপাতাল নীতিতে নিরাপত্তা প্রহরীদের ব্যবহৃত সামরিক ভাষা কায়দার ভাষায় পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছে অন্টারিওর রোগী ন্যায়পাল (প্যাশেন্ট ওম্বুডসম্যান)। সেখানে দুইজন আহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই আহ্বান জানিযেছে তারা। তাদের মধ্যে ৮৪ বছর বয়সী একজন নারী রয়েছেন, যিনি দুই বছর আগে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।
অন্টারিওর রোগী ন্যায়পাল বেশ কিছু ভাষা আবিস্কার করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে টরন্টোর ইস্ট এন্ডে মাইকেল গ্যারন হসপিটালের সুরক্ষা এজেন্টদের ব্যবহৃত টুর অব ডিউটির মতো শব্দগুচ্ছ, যা যুদ্ধকালীন মার্চিং অর্ডারের মতো। এটা দ্বারা এমন সংস্কৃতিকে বোঝায় যা, হাসপাতালের মূল উদ্দেশের সঙ্গে বেমানান।
ওই আঘাত নিয়ে ন্যায়পালের তৈরি পুরো প্রতিবেদনের একটি কপি সিটিভি নিউজের হাতে এসেছে। প্রতিবেদনে ন্যায়পাল বলেছেন, এ ধরনের নীতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি স্বাস্থ্য সেবা পরিবেশের উদ্দেশ্য ও নীতির সঙ্গে খাপ খায় না। যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট ভাষায় একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ইতিবাচক ও সহায়ক পরিবেশের প্রতিফলন ঘটে না। সেই সঙ্গে এটা এর মূল নীতিও সমর্থন করে না। বিশেষ করে রোগীদের প্রতি সম্মানের ক্ষেত্রে।
মাইকেল গ্যারন হসপিটাল বলেছে, ন্যায়পালের সুপারিশ তারা গ্রহণ করেছে। সুপারিশের মধ্যে রয়েছে নীতিমালায় ব্যবহৃত ভাষায় পরিবর্তন আনা এবং এর নিরাপত্তাকর্মীদের বডি ক্যামেরা দ্বারা সজ্জিত করা। বল প্রয়োগের যেকোনো ঘটনার প্রমাণ রাখতে বেশ কিছু কানাডিয়ান পুলিশ ফোর্স বডি ক্যামেরা পরিধান করে থাকে।
সিটিভি নিউজের একটি প্রতিবেদনের পর ন্যায়পালের কার্যালয় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে প্রতিবেদন তৈরির উদ্যোগ নেয়। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ৮৪ বছর বয়সী জুন টারকোট মৌলিক পরীক্ষার জন্য মাইকেল গ্যারন হসপিটালে এসে কীভাবে আঘাতের শিকার হন তা নিয়ে প্রতিবেদনটি করেছিল সিটিভি নিউজ।
বোবা এবং ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত টারকোটকে হাসপাতালে এসে প্রত্যাশিত সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়। কীভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে পরিবারের একজন সদস্য হোয়াইট বোর্ডে সেই নির্দেশনাও দিয়েছিলেন। পরিবারের ওই সদস্য পরদিন সকালে এসে টারকোটের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান।
টারকোটের ছেলে মাইকেল টারকোট বলেন, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে আঘাত নিয়ে ফেরা কোনোমতেই কাক্সিক্ষত হতে পারে না।

