
ভঙ্গুর সামাজিক ব্যবস্থা আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে ফুড ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল করে তুলছে বলে জানিয়েছে অটোয়া ফুড ব্যাংকের অষ্টম বার্ষিক হাঙ্গার রিপোর্ট। প্রতিবেদন অনুযায়, জ্যেষ্ঠ নাগরিক এবং বাবা-মার পরিবারও এখন ফুড ব্যাংকের দিকে ঝুঁকছেন।
ফুড ইনসিকিউরিটি ইন ব্রোকেন সিস্টেম শীর্ষক প্রতিবেদন শুক্রবার প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের পর থেকে অটোয়া ফুড ব্যাংকে আসা মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২৪ সালে সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৮৯ হাজারে। গত বছর অটোয়ার ২৫ শতাংশের বেশি পরিবার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ছিল।
অটোয়া ফুড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাচেল উইলসন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দুর্ভাগ্যবশত এ বছর যে সংখ্যাটি আমরা দেখতে পাচ্ছি তা আমাদের কল্পনাতেও ছিল না। আমরা জানি যে, ক্রয়ক্ষমতার সংকট লোকজনকে ফুড ব্যাংকের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা অনেক বেশি বেকার মানুষ দেখতে পাচ্ছি।
প্রতিবেদনে উইলসন বলেছেন, জরুরি ফুড ব্যাংক কখনোই নগরীর সামাজিক সুরক্ষা জালের মেরুদ- হতে পারে না। তারপরও ৭১ সদস্যের নেটওয়ার্কটি সেটাই হয়ে উঠেছে। হাজারো মানুষে অত্যাবশকীয় সেবা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও এক্ষেত্রে স্থিতিশীল কোনো তহবিলে বা স্বীকৃতি নেই।
জ্যেষ্ঠ নাগরিক, দুই প্যারেন্টের পরিবার এবং নবাগতদের মধ্যে ফুড ব্যাংকের দ্বারস্থ হওয়ার বিষয়টিতে জোর দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের ফুড ব্যাংকের সহায়তা নেওয়ার হার ২০১৯ সালের তুলনায় ৯০ শতাংশ বেড়েছে। নির্দিষ্ট আয়ের মানুষদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অটোয়া ফুড ব্যাংকের সাহায্য নেওয়া লোকজনের মধ্যে ৪০ শতাংশ সিঙ্গেল অ্যাডাল্ট, ৯ শতাংশ জ্যেষ্ঠ নাগরিক, ২৯ শতাংশ দুই প্যারেন্টের পরিবার, ১৬ শতাংশ সিঙ্গেল প্যারেন্ট পরিবার, ৩২ শতাংশ কানাডায় নবাগত, ৫০ শতাংশ ব্যক্তিগত আবাসনে বসবাসকারী, ৩৫ শতাংশ সামাজিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল এবং ১১ শতাংশ চাকরির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহকারী।

