
মহাসড়কে সশব্দে চলাচল করছে ট্রাক। নির্মাণ সাইটগুলোতে শোনা যাচ্ছে হাতুড়ির শব্দ। মাথার উপর দিয়ে উড়োজাহাজগুলো উড়ে যাওয়ার সময় কানে আসছে গর্জন।
আপনি যদি কানাডার কোনো বড় শহরে বসবাস করেন তাহলে নিয়মিতই আপনি শব্দ শুনে থাকেন, যা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ছোট শহর ও গ্রামীণ অঞ্চলগুলো সাধারণত শান্ত থাকলেও ট্রেন চলে যাওয়ার শব্দও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার স্কুল অব পপুলেশন অ্যান্ড পাবলিক হেলথের অধ্যাপক হিউ ডেভিস বলেন, শব্দকে আমরা নিছক বিরক্তিকর বলে মনে করে থাকি। এসব শব্দের মধ্যে কিছু যা ক্ষতিকর তা অনুধাবন করা লোকজনের পক্ষে সহজ নয় বলে আমি মনে করি।
উত্তর আমেরিকায় শব্দ সংক্রান্ত যে নীতিমালা আছে তা কাজের নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। শব্দের উৎসগুলোর পরিবর্তে পার্টি বা কনসার্ট ভেন্যুর দিকেই এতে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে বেশি। যদিও শব্দের উৎসগুলোই আমাদের জন্য বেশি ক্ষতির কারণ। যেমন পরিবহন থেকে সৃষ্ট শব্দ।
কিন্তু অসংখ্য গবেষণা আছে, যেখানে বলা আছে যে, নিয়মিত যানবাহনের উচ্চ শব্দ দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। কানাডিয়ানরা নিয়মিতই এ ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান।
টরন্টো মেট্রোপলিটান ইউনিভার্সিটির জিওগ্রাফি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক টর ওইয়ামো সিবিসির দি পোজের হোস্ট ড. ব্রায়ান গোল্ডম্যানকে বলেন, আমাদের ¯œায়ুতন্ত্র প্রতিনিয়ত সুরক্ষার জন্য বিবর্তিত হয়েছে। শ্রবণও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। আমরা যদি জেগে না থাকি তাহলে হয়তো আমরা শব্দের কারণে বিরক্ত হই না। কিন্তু তারপরও ওই শব্দ আমরা গ্রহণ করি এবং আমাদের ¯œায়ুতন্ত্র তা প্রক্রিয়াকরণ করে।
এ কারণেই অ্যালার্ম আমাদেরকে সকালে জাগিয়ে দেয় বলে জানান ডেভিস। তিনি বলেন, সব সময়ই আপনি শুনছেন। এমনকি গভীর রাতেও আপনার মস্তিষ্ক শব্দ প্রক্রিয়াকরণ করে।

