
আমাদের মায়ের ভাষায় স্বপ্ন দেখার স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলো যে ভাষা শহীদেরা, তাঁদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে টরন্টোতে হয়ে গেল নানা আয়োজন। ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে টরন্টোর অন্যতম সাংস্কৃতিক ও আবৃত্তি সংগঠন বাচনিক আয়োজন করেছিল বর্নাঢ্য আয়োজন মালা।
গত ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ বৈরী আবহাওয়া থাকা স্বত্বেও রাত ৮ টায় বাচনিক এর পূর্ব নির্ধারিত আয়োজন “আমার বর্ণমালা, আমার অহংকার” অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ কমিউনিটি সার্ভিসেস সেন্টারের মিলয়াতনে।
বাচনিক এর আয়োজন তিন ভাগে বিভক্ত ছিল । প্রথম ভাগে বাচনিক এর ক্ষুদে সদস্যদের নিয়ে একটি নাটিকা “ বাংলা আমার মায়ের ভাষা” পরিবেশিত হয়। এই নাটিকা রচনা করেন বাচনিক এর সদস্য কামরুন্নাহার হীরা আর নাটকটি নির্দেশনা দেন মেরী রাশেদীন। কবি কাজী হেলাল শুরুতে বাচ্চাদের অভিনন্দন জানিয়ে শুভেচ্ছা বাণী প্রদান করেন। ক্ষুদে সদস্য যারা এই নাটিকায় অভিনয় করে এঞ্জেল, রৌদ্দুর, রাহিস, রাহিব, অনুরাগ, এরেন, এল্যাইনা, ঋষি, তাথৈ ও আবদি । বাচনিক ২০১৭ সাল থেকে নতুন প্রজন্ম নিয়ে কাজ করছে । তবে এত ক্ষুদে বাচ্চাদের নিয়ে বাচনিক এর কাজ করবার অভিজ্ঞতা ছিল এই প্রথম।
দ্বিতীয় পর্বে ছিল বাচনিক এর নিয়মিত সদস্যদের পরিবেশনা “আমার বর্ণমালা, আমার অহংকার”। সেখানে তুলে ধরা হয় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সুদীর্ঘ ইতিহাস, ১৯৬১ সালের ভারতের শিলচরে ভাষা আন্দোলন, আফ্রিকার ভাষার জন্য লড়াই সহ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ভাষা আন্দোলনের ইতিবৃত্ত। একই সাথে পরিবেশিত হয় বাংলা ভাষা কেন্দ্রিক নানা কবিতা।
এই মুল পর্বে বাচনিক এর ৪ নতুন সদস্য – মাধব, জলিল, এলিজা এবং বীথিসহ বাচনিক এর জৈষ্ঠ্য সদস্য কাজী হেলাল, হীরা, লিনা, হাসি , শাপলা, ও মেরী কবিতা আবৃত্তি করেন ।
পুরো অনুষ্ঠানের গ্রন্থনা করেন মাধব কর্মকার, মঞ্চ সজ্জার দায়িত্বে ছিলেন কামরুন্নাহার হীরা,শাপলা শালুক ও হাসিনা হানিফ এবং নির্দেশনায় মেরী রাশেদীন।
অনুষ্ঠান শেষে বাচনিক এর নবীন, প্রবীন সদস্য এবং শিশু কিশোর রা শীত উপেক্ষা করে ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে একুশের ১ম প্রহরে উপস্থিত হন টরন্টোর স্থায়ী শহিদ মিনারে। আয়োজকরা জানান, মহান একুশে ফেব্রুয়ারি এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বাচনিক এর আয়োজনে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন কমফোর্ট এর কর্নধার বাবলু চৌধুরী ও ডোমিনস পিজার আহসানুল হাফিজ। তাঁদের দুজনের প্রতি বাচনিক কৃতজ্ঞ প্রকাশ করে।
আয়োজন কবিতার সাথে কী-বোর্ডে সঙ্গত করেন গুনীশিল্পী রুপতনু শর্মা। সাউন্ড এ সাহায্য করেছেন আরেক গুণী শিল্পী ইমরান হোসেন সুমন । স্থিরচিত্র ধারন করেন আলোকচিত্রী দীপক সূত্রধর।
এছাড়া বাচনিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কলি আপা কে, যিনি বড়বোনের মত তাঁর সাহায্যের হাত আমাদের দিকে বাড়িয়ে দিয়েছিলেন অনুষ্ঠানে। আমাদের আয়োজনটি আরো বেশী উজ্জল হয় দুই প্রাণবন্ত সঞ্চালক কামরুন নাহার হীরা ও মাধব কর্মকার তাঁদের সাবলীল সঞ্চালনার জন্য ।
বাচনিক এর কর্নধার মেরী রাশেদীন জানান, আমরা বাংলাদেশী হিসেবে গর্বিত, আমরা যেমন ভাষার জন্য প্রথম জীবন দান করেছি, ঠিক তেমনি এই ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রথম উদ্যোগ নেন কানাডা প্রবাসী বাঙ্গালিরাই।
এছাড়াও তিনি বলেন, এখন থেকে বাচনিক অনলাইন ও অফলাইন এ বাচনিক ক্ষুদে শিল্পীদের নিয়ে কাজ করবে। কারন হাটি হাটি পা পা করে বাচনিক এই বছর ১২ বছর এ পদার্পণ করছে। আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এই প্রজন্মে যেন নিজের মায়ের ভাষাকে সম্মান করে, তাঁকে ধারন ও লালন সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব। এই শহরে বড় বড় আয়োজনের ফাঁকে ফাঁকে আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতি কে বাঁচিয়ে রাখবার জন্য এমন আয়োজন আরো হোক এবং আপনাদের সহযোগিতা পেলে আমরা বাচনিক আরো অনেক দূর এগিয়ে যাব । প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

