
গাজা ভূখন্ড থেকে ফিলিস্তিনীদের সরানোর ধারণার সঙ্গে একমত নন কানাডিয়ান রাজনীতিকরা। ইসরায়েলি মন্ত্রী অবশ্য এসব ফিলিস্তিনীদের কিছু অংশকে কানাডায় পাঠানোর প্রস্তাব করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে বুধবার এক পোস্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি লেখেন, ফিলিস্তিনীদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে আমরা সমর্থন করি। একইভাবে গাজা ভূখ- থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ না হওয়ার অধিকারের প্রতিও আমাদের সমর্থন রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগের দিন সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্ব নেতাদের চমকে দেন। ওই সময় তিনি অঞ্চলটি থেকে ফিলিস্তিনীদের সরিয়ে যুক্তরাষ্ট্র মালিকানাধীন রিসোর্ট গন্তব্য করার প্রস্তাব দেন। ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে জাতিগত নিধনের সঙ্গে তুলনা করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও এ ধরনের গ্রুপগুলো।
হোয়াইট হাউসের সহযোগী ও বিভিন্ন বিশ্লেষক যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার অন্য প্রস্তাব দেন। তবে ট্রাম্প বৃহস্পতিবার তার প্রস্তাবের কথা আবারও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষে গাজা ভূখ- যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করবে ইসরায়েল।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে বৃহস্পতিবার লেখেন, গাজার কোনো বাসিন্দা অন্য কোনো দেশে পুনর্বাসিত হতে চাইলে তাদের সরিয়ে নিতে পরিকল্পনার খসড়া প্রণয়নে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। কানাডার মতো দেশগুলো আগে গাজার বাসিন্দাদের নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। দেশটির রয়েছে কাঠামোগত অভিবাসন কর্মসূচি।
গাজাবাসীর জন্য অটোয়ার যে পুনর্বাসন কর্মসূচিটি আছে তা কেবলমাত্র কানাডায় বসবাসকারীদের স্বজনদের জন্য। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে সামান্য সংখ্যক ফিলিস্তিনী কানাডায় আসতে পেরেছেন। সংখ্যাটি পাঁচ হাজারে সীমিত করা আছে।
ফিলিস্তিনীদের পুনর্বাসনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান সম্পর্কে জানতে চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেনি ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা। ২০২৪ সালের মে মাসের শেষ দিকে প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০ মে পর্যন্ত মাত্র ৪১ জন কানাডায় পৌঁছান। সিবিসি নিউজ গত মাসে এক প্রতিবেদনে জানায়, অস্থায়ী কর্মসূচির অধীনে মাত্র ৬১৬ জন ফিলিস্তিনী কানাডায় এসেছেন।

