
কানাডিয়ান জ্বালানির ওপর ১০ শতাংশ এবং অন্য সবকিছুর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে নির্বাহী আদেশে শনিবার স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে এই শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও একমাসের জন্যে স্থগিত করা হয়।
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা বলেছে, ২০২৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার রপ্তানি ৫৯ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
এই রপ্তানির ৪৩ শতাংশের বেশি হয়ে থাকে মাত্র ছয়টি খাত থেকে। এগুলো হলো তেল ও গ্যাস উত্তোলন, তেল ও গ্যাস পরিশোধন, গাড়ি নির্মাণ, অ্যালমিনিয়াম উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ, অ্যারোস্পেস এবং শস্য ও প্রাণিসম্পদ উৎপাদন।
যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে কানাডার সর্ববৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার মোট রপ্তানি ৫৯ হাজার ৪০০ কোটি ডলার হলেও বাকি বিশে^ দেশটির রপ্তানি সম্মিলিতভাবে ১৭ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। এর অর্থ হচ্ছে কানাডার মোট রপ্তানির ৭৭ শতাংশের বেশি হয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্রে।
এখন দেখে নেওয়া যাক ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ফলে কানাডার কোনো শিল্প খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তেল ও গ্যাস উত্তোলন: ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার তেল ও গ্যাস রপ্তানি ছিল ১৪ হাজার ৩০০ কোটি ডলার।, যা দেশটির মোট তেল-গ্যাস রপ্তানির ৯৭ শতাংশ। প্রদেশ হিসাবে আলবার্টা থেকে রপ্তানির পরিমাণ ১২ হাজার ১৬০ কোটি, সাস্কেচুয়ান থেকে ১ হাজার ১৭০ কোটি, নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডর থেকে ৬৮০ কোটি এবং ব্রিটিশ কলাম্বিয়া থেকে ৬৭০ কোটি ডলার। ১০ শতাংশ শুল্ক হিসাবে এ খাতে অতিরিক্ত ব্যয় হবে ১ হাজার ৪৩০ কোটি ডলার।
অটোমোবাইল ও লাইট-ডিউটি মোটর ভেহিকল উৎপাদন: ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এ খাতের মোট রপ্তানি ছিল ৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার, যা এ খাতের মোট রপ্তানির ৯৬ শতাংশ। প্রদেশভিত্তিক হিসাবে অন্টারিও থেকে রপ্তানির পরিমাণ ৫ হাজার ২৫০ কোটি, কুইবেক থেকে ২ কোটি ৪০ লাখ এবং আলবার্টা থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ফলে এ খাতের বাড়তি খরচ হবে ১ হাজার ৩৩০ কোটি ডলার।
পেট্রোলিয়াম পরিশোধন: ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এ খাতের মোট রপ্তানি ছিল ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের, যা এ খাতের মোট রপ্তানির ৮৫ শতাংশ।
প্রদেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এ খাতের মোট রপ্তানি নিউ ব্রান্সউইক থেকে ১ হাজার ১০ কোটি, আলবার্টা থেকে ৬০০ কোটি, কুইবেক থেকে ৩৭০ কোটি এবং অন্টারিও থেকে ২৪০ কোটি ডলার। ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ফলে এ খাতের অতিরিক্ত ব্যয় হবে ২৩০ কোটি ডলার।
শস্য ও প্রাণিসম্পদ উৎপাদন: যুক্তরাষ্ট্রে এ খাতের মোট রপ্তানি ১ হাজার ৩১০ কোটি ডলারের, যা এ খাতের মোট রপ্তানির ৩২ শতাংশ।
প্রদেশভিত্তিক হিসাবে অন্টারিও থেকে যুক্তরাষ্ট্রে শস্য ও প্রাণিসম্পদ রপ্তানি ৪৭০ কোটি, আলবার্টাট থেকে ১৯০ কোটি, সাস্কেচুয়ান থেকে ১৮০ কোটি, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া থেকে ১৪০ কোটি, কুইবেক থেকে ১২০ কোটি এবং ম্যানিটোবা থেকে ১২০ কোটি ডলারের। ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর বাড়তি খরচ হবে ৩৩০ কোটি ডলার।
অ্যালুমনিয়াম উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ: কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এ খাতের রপ্তানি ১ হাজার ২৮০ কোটি ডলারের, যা মোট রপ্তানির ৯৩ শতাংশ। প্রদেশভিত্তিক হিসাবে, কুইবেক থেকে রপ্তানির ৯৮০ কোটি, অন্টারিও থেকে ২০০ কোটি এবং ব্রিটিশ কলাম্বিয়া থেকে ৯ কোটি ১৫ লাখ ডলারের। ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ফলে এ খাতে অতিরিক্ত খরচ হবে ৩২০ কোটি ডলার।
অ্যারোস্পেস ও যন্ত্রাংশ: এ খাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ১ হাজার ২৮০ কোটি ডলারের, যা এ খাতের মোট রপ্তানির ৬৭ শতাংশ। প্রদেশভিত্তিক হিসাবে কুইবেক থেকে এ খাতের রপ্তানি ৮৮ কোটি, অন্টারিও থেকে ৩২০ কোটি এবং ম্যানিটোবা থেকে ৩৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারের। ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর এ খাতে বাড়তি খরচ হবে ৩২০ কোটি ডলার।

