Latest Posts

আবাসন ব্যয় কমাতে সরকারকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে: বিশেষজ্ঞদের মত

- Advertisement -
হোমলাইফ মিরাকলের শীর্ষস্থানীয় রিয়েলটর আব্দুল আউয়াল বাংলামেইলকে বলেন, এইচএসটি চালুর সময় ফেডারেল সরকার বাড়ি ক্রেতাদের কিছুটা স্বস্তি দিতে রিবেট চালু করেছিল। কিন্তু ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাড়ির দাম প্রায় ২৭০ শতাংশ বেড়ে গেলেও রিবেটের সীমা একবারও হালনাগাদ করা হয়নি

আকাশছোঁয়া বাড়ির দাম, সুদের হার বৃদ্ধি এবং সরকারের বিভিন্ন ফি ও করের চাপ এসব কারণে অন্টারিওর গ্রেটার টরন্টো এরিয়ায় (জিটিএ) সাধারণ নাগরিকদের জন্য বাড়ি কেনা এখন প্রায় স্বপ্নের মতোই দূরবর্তী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জিটিএতে একটি নতুন সিঙ্গেল-ফ্যামিলি বাড়ির বেঞ্চমার্ক মূল্য প্রায় ১৫ লাখ ডলার, আর একটি কন্ডোমিনিয়ামের গড় দাম ১০ লাখ ডলারের বেশি। যদিও এই দাম ২০২২ সালে রেকর্ড উচ্চতার তুলনায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমেছে, তবুও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটি এখনও অপরিবেশ্য।

- Advertisement -

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাজার পরিস্থিতির পেছনে একাধিক কারণ থাকলেও সরকারি ফি ও করই সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা। গড়পড়তা একটি নতুন বাড়ির মূল্য প্রায় ২৫ শতাংশেরও বেশি অংশ সরকারকে দিতে হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশটি হলো হারমোনাইজড সেলস ট্যাক্স (এইচএসটি)।

হোমলাইফ মিরাকলের শীর্ষস্থানীয় রিয়েলটর আব্দুল আউয়াল বাংলামেইলকে বলেন, “এইচএসটি চালুর সময় ফেডারেল সরকার বাড়ি ক্রেতাদের কিছুটা স্বস্তি দিতে রিবেট চালু করেছিল। কিন্তু ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাড়ির দাম প্রায় ২৭০ শতাংশ বেড়ে গেলেও রিবেটের সীমা একবারও হালনাগাদ করা হয়নি। ফলশ্রুতিতে, ক্রেতারা এখন করের ভারে পুরোপুরি বিপর্যস্ত।”

তিনি আরও বলেন, “একটি ১৫ লাখ ডলারের বাড়িতে শুধু এইচএসটি বাবদ প্রায় ৯০,০০০ ডলার ব্যয় হয়। স্থানীয় পর্যায়ের ডেভেলপমেন্ট চার্জ, পারমিট ফি এবং ল্যান্ড ট্রান্সফার ট্যাক্স মিলিয়ে ক্রেতার ওপর চরম চাপ তৈরি হচ্ছে। সরকার যদি সত্যিই নাগরিকদের বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ দিতে চায়, তবে এসব চার্জ ও করের হার পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।”

রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞরা বলেন, বর্তমান উচ্চ সুদের হার এবং নির্মাণ খরচের কারণে নতুন প্রকল্প শুরু করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সরবরাহ কমার ফলে দাম স্থিতিশীল না থেকে আরও অস্থির হচ্ছে।

টরন্টো রিয়েল এস্টেট বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন নির্মাণের অনুমোদন গত বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে একক পরিবারিক আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগকারীরা লাভের হ্রাসের কারণে পিছু হটছেন।

বাংলামেইলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে টরন্টো অঞ্চলে গৃহমূল্যের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশই সরকারের বিভিন্ন কর, পারমিট ফি, উন্নয়ন চার্জ ও অনুমোদন খরচের কারণে তৈরি হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, একটি ১০ লাখ ডলারের ঘরের মধ্যে প্রায় ২.৫ লাখ ডলারই শুধুমাত্র সরকারি বাবদ পরিশোধ করতে হয়।

আব্দুল আউয়াল বলেন, “যে দেশে সাধারণ মানুষ সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে একটি বাড়ি কিনতে চায়, সেখানে সরকারের উচিত এই প্রক্রিয়াকে সহজ করা। যদি রিবেটের সীমা বাড়ানো হয় এবং করের হার কিছুটা কমানো হয়, মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারা আবারও বাজারে ফিরতে পারবে।”

অর্থনীতিবিদ ড. রবার্ট হেনসন বাংলামেইলকে বলেন, “আবাসন বাজার কেবল ঘর তৈরি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। নির্মাণ, ইন্টেরিয়র ডিজাইন, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, মর্টগেজ ও আর্থিক খাত সবই সরাসরি আবাসন বাজারের সঙ্গে যুক্ত। যদি বাজার ভারসাম্যহীন থাকে, তা ভোক্তা ব্যয়, সঞ্চয় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে নেতিবাচক প্রভাবিত করবে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের উচিত কর কাঠামো, রিবেট নীতি ও জমি উন্নয়ন চার্জের ক্ষেত্রে সংস্কার আনা। তা না হলে, মধ্যবিত্তের স্বপ্ন নিজের ঘর কেবলই স্বপ্নেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।

- Advertisement -

Latest Posts

Don't Miss

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.