
চোরাই গাড়ি লুকিয়ে রাখা হতে পারে এমন একটি বাড়ির খোঁজে গ্রেটার টরন্টো এরিয়া (জিটিএ) দিয়ে যখন সাদা রঙের একটি পুলিশ ট্রাক যাচ্ছিল তখন চালকের আসনে ছিলেন স্কট ক্রেসওয়েল। অন্টারিওর মিসিসোগার জনবহুল একটি বাণিজ্যিখ জোনে প্রবেশ করেন ইয়র্ক রিজিয়নাল পুলিশের এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা। ওই স্থানটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গাড়ি পার্ক করা ছিল এবং কোনো ধরনের সন্দেহজনক চিহ্ন আছে কিনা তা তিনি পরীক্ষা করে দেখছিলেন। এরপর তিনি হল্টন হিলস রিজিয়নের বাইরের একটি নেবারহুডের ভেতর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যান। সেখানে একটি ফার্মল্যান্ডের কাছে ঘেরা একটি বৃহৎ বিচ্ছিন্ন বাড়ি দেখা যায়।
বাইরে থেকে বাড়িটি পরিদর্শনের পর ক্রেসওয়েল বলেন, কোনো ধরনের সন্দেহ যাতে না হয় সেজন্য কয়েকদিনের জন্য এখানে চোরাই গাড়িগুলো রাখা হয়ে থাকে এবং এই সন্দেহের পেছনে তার কাছে শক্তিশালী কারণ রয়েছে।
দেশে গাড়ি চুরির সমস্যা এতোটাই গুরুতর হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, ইন্স্যুরেন্স ব্যুরো অব কানাডা একে জাতীয় সমস্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সমস্যাটি সবচেয়ে বেশি গ্রেটার টরন্টো এরিয়াতে (জিটিএ)। এখানে বিদ্যমান সমস্যাটি সমাধানে পুনরায় মনোযোগ বাড়াচ্ছে পুলিশ।
ইয়র্ক রিজিয়নের মধ্যে ১০ জন কর্মকর্তা নিয়ে তৈরি ক্রেসওয়েলের ইউনিটটি গাড়ি চুরির বিরুদ্ধে লড়াইরত অন্যতম সম্মুখসারির ইউনিট। ইউনিটটির দায়িত্ব হচ্ছে নজরদারি করা এবং সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা। চোরাই গাড়ি তার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াও তাদের একটি লক্ষ্য।
ক্রেসওয়েল বলেন, দক্ষিণপশ্চিম অন্টারিওতে বেশ কয়েক ডজন অপরাধী গ্রুপ গাড়ি চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সহজেই প্রবেশযোগ্য ড্রাইভওয়েগুলোতে বিপুল সংখ্যক বিলাসবহুল গাড়ি পার্ক করে রাখার কারণেই চোরেরা এসব গাড়ি চুরি করতে উদ্বুদ্ধ করছে। গাড়িগুলো অনেক মূল্যবান হওয়াই এমনটা হচ্ছে। এগুলো চুরি করা খুবই সহজ। এ ছাড়া বিদেশের এগুলোর উচ্চ চাহিদাও রয়েছে।
চুরি করা বেশিরভাগ গাড়ির গন্তব্য হয় আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য, যেখানে টয়োটা ও হোন্ডার পাশাপাশি লেক্সাস ও রেঞ্জ রোভারের মতো বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে ইলেক্ট্রিক ভেহিকল এখন পর্যন্ত চুরির লক্ষ্যবস্তু করা হয় না। কারণ, ওইসব দেশে এখন পর্যন্ত চার্জিং সুবিধা সেভাবে গড়ে ওঠেনি। চুরি করা গাড়িগুলোর মধ্যে অল্প সংখ্যক নতুন কার হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হয় এবং কানাডার অভ্যন্তরে পুনরায় বিক্রি করা হয় এগুলো।
কানাডাজুড়ে গত বছর ৭০ হাজারের বেশি ব্যক্তিগত গাড়ি চুরি গেছে। এর মধ্যে অন্টারিওতেই চুরি গেছে ৩০ হাজারের বেশি গাড়ি। বিমা কোম্পানিগুলোর অর্থায়নকৃত চুরি প্রতিরোধী সংগঠণ ইকুইট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যে এমনটাই বলা হয়েছে।

