
বেলারুশে ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত জালিয়াতপূর্ণ নির্বাচনের বার্ষিকীতে দেশটির দশ ব্যক্তি ও ছয় প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কানাডা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি ১০ আগস্ট এক বিবৃতিতে এই কথা জানিয়েছেন।
বেলারুশে চলমান ও পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার অবৈধ আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বেলারুশের কর্তৃত্ববাদী প্রেসিডেন্ট আলক্স্যান্ডার লুকাশেঙ্কো গত মাসে তার ক্ষমতায় আসার ৩০ বছর উদযাপন করেন।
২০২০ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি ষষ্ঠবারের মতো ক্ষমতায় আসেন। নির্বাচন জালিয়াতিপূর্ণ ছিল বলে দেশে ও দেশের বাইরে ব্যাপক আলোচনা আছে।
যাদের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তাদের মধ্যে বিচারকও রয়েছেন। ২০২০ সালে নির্বাচনে যেসব নাগরিক বিরোধিতা করেছিলেন বিচারকরা তাদের বিরুদ্ধে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেছে কানাডা। ২০২০ সালের নির্বাচনের পর কর্মীরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও ধর্মঘটে গেলে রাষ্ট্রায়ত্ব যেসব প্রতিষ্ঠান তাদেরকে বরখাস্ত করেছিল সেসব প্রতিষ্ঠানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে সেইসব ব্যক্তির ওপর, যারা বেলারুশে রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন।
বেলারুশের কর্তৃত্ববাদী শাসক রাশিয়ার বড় মিত্র। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমদিন যেসব ট্যাঙ্ক ইউক্রেনে ঢুকে পড়ে তার অনেকগুলোই গেছে বেলারুশের মধ্য দিয়ে। এই সুযোগদানের মধ্য দিয়ে বেলারুশ রাশিয়াকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত ও অপেক্ষাকৃত অধিক সরাসরি রুট করে দিয়েছে।
যেসব প্রতিষ্ঠানের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে সেগুলো ইউক্রেনে হামলায় ব্যবহৃত সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন ও মেরামতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কারাডা।
১০ আগস্ট এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো বলেছে, লুকাশেঙ্কো সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার সমন্বিত ও বহুপাক্ষিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই অবরোধ। বেলারুশে গণতন্ত্রের টুটি চেপে ধরতে লুকাশেঙ্কোকে যারা সহায়তা করছে তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে আরও নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও তারা উন্মুক্ত রেখেছে।

