
ক্যালগেরিতে সম্প্রতি হাঁটতে বের হন শাব কারম্যান। সে সময় একটি গাড়িতে থাকা শিশুদেরকে তার প্রিয় পাঞ্জাবি র্যাপারের গান গাইতে শোনেন।
৩০ বছর বয়সী এই পাঞ্জাবি-কানাডিয়ান বলেন, গাড়ি থেকে একটানা সুর ভেসে আসছিল, ভেতরে থাকা সবাই কোনো ধরনের প্রস্তুতি ছাড়াই নিচু সুরে সিধু মুস ওয়ালার গান গাইছিলেন। আমি গাড়িটির দিকে এগিয়ে যেতেই দেখলাম যারা তার গান গাইছিলেন তাদের কারোরই গাঞ্জাবি সংস্কৃতি এবং আমাদের সংস্কৃতিতে গানটির অর্থ কী জানা নেই। কিন্তু তারা এতে মজা পাচ্ছিলেন। দেখে আমার খানিকটা গর্ব হলো।
কারম্যান বলেন, এরপর প্রেইরির নৈশক্লাব ও বারগুলোতেও তিনি মুস ওয়ালার মন ছুঁয়ে যাওয়া সুর এবং ইংরেজি ও পাঞ্জাবি গান শুনেছেন। ২০২২ সালের ২৯ মে ভারতে হত্যাকা-ের শিকার হওয়ার পরই কেবল মুস ওয়ালার প্রভাবটা বাড়ছে। ওই সময় তার বয়স ছিল ২৮ বছর।
বিশ্বব্যাপী ভক্তরা মুস ওয়ালাকে তার সংগীত ও রাজনীতির সম্রণ ও সম্মান জানান। ২২ মে ছিল তার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী।
কারম্যান বলেন, প্রথমত তিনি ছিলেন সবচেয়ে প্রভাবশালী সংগীত ঘরানা হিপহপের ভারতীয় প্রতিনিধি। এবং এটা ছিল অনেকটা নতুন। তার গান ছিল অপরিশীলিত। তিনি ছিলেন খাটি। মৃত্যুর পর তার গান পাঞ্জাবি তরুণদের বৈপ্লবিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ, সারা পৃথিবীর মানুষ এবং যারা পাঞ্জাবি কমিউনিটির নন তারাও এখন তার গান শুনছে। তারা পাঞ্জাবি সংস্কৃতি কী তা শিখছে।
এই গান তার পরিবারকে তাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে সহায়তা করে বলে জানান ক্যালগেরির বাসিন্দা প্রিত সিধু। দুই ছেলের মা ৩৬ বছর বয়সী প্রিত সিধু বলেন, মুস ওয়ালার র্যাপ আধ্যাত্বিক। তিনি বাবা-মা ও বড়দের সম্মান প্রদর্শন, কঠোর পরিশ্রম, টটারবান পরিধান ও যা কিছু ন্যায্য তার পক্ষে দাঁড়ানোর কথা বলতেন। সংগীতের চেয়েও তিনি বড়।
শুভদ্বীপ সিং সিধু হিসেবে জন্ম নেওয়া মুস ওয়ালা প্রথম স্বীকৃতি পান ২০১৭ সালে তার গান সো হাই প্রকাশের পর। সে সময় তিনি ছিলেন অন্টারিওর ব্র্যাম্পটনে ১৭ বছর বয়সী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী। তার গানের আবেদন কেবল কানাডায় নয়, যুক্তরাজ্যে বিপুল সংখ্যক পাঞ্জাবি অভিবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া তার প্রথম অ্যালবাম বিলবোর্ড কানাডিয়ান অ্যালবামস চার্টে জায়গা করে নেয়। কানাডিয়ান হট ১০০ গানের মধ্যে শেষ পর্যন্ত তার ১৩টি গান স্থান পায়। এগুলোর কিছু স্থান পায় তার মৃত্যুর পরে।

